যুক্তরাজ্যে দুই কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আদালতে রোমহর্ষক বর্ণনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ , ০৯:২৩ পিএম


একা পেয়ে ২ কিশোরীকে ধর্ষণ, আদালতে রোমহর্ষক বর্ণনা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ারের ফোর্ডিংব্রিজে দুটি পৃথক ঘটনায় দুই কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত তিন কিশোরকে কারাদণ্ড না দিয়ে পুনর্বাসন ও নিবিড় নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে সংঘটিত এই নৃশংস ধর্ষণের ঘটনাগুলো ওই কিশোরেরা মোবাইলে ভিডিও করেছিল। সেই ফুটেজে তাদের একে অপরকে হাসাহাসি ও উৎসাহ দিতে দেখা গেছে। সাউদাম্পটন ক্রাউন কোর্টের বিচারক নিকোলাস রোল্যান্ড এই আদেশ দেন। 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম ঘটনার শিকার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে এক কিশোরের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিল। পরে দেখা করতে গিয়ে সে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়। রিভার অ্যাভনের কাছের একটি আন্ডারপাসে তাকে তিনবার ধর্ষণ করা হয়। বিচার চলাকালীন আদালত জানতে পারেন, মেয়েটি সেই সময় প্রচণ্ড আতঙ্কিত ছিল এবং তাকে নদীতে ফেলে দেওয়া হতে পারে বলে ভয় পাচ্ছিল। কিশোররা এই হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ভুক্তভোগী কিশোরীকে পরবর্তীতে আরও নানাবিধ কুরুচিপূর্ণ বার্তার সম্মুখীন হতে হয়।

দ্বিতীয় ঘটনায়, ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোরীকে ফোর্ডিংব্রিজ রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে ছুরির ভয় দেখিয়ে একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে তিনবার ধর্ষণ করা হয়। তদন্তে কোনো ছুরি উদ্ধার করা সম্ভব না হলেও ফরেনসিক পরীক্ষায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পোশাকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

বিচারক নিকোলাস রোল্যান্ড মামলার রায়ে ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরকে তিন বছরের ‘ইয়ুথ রিহ্যাবিলিটেশন অর্ডার’ প্রদান করেন, যার মধ্যে নিবিড় নজরদারি ও বিশেষ তত্ত্বাবধান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অন্য ১৪ বছর বয়সী কিশোরকে দেড় বছরের জন্য প্রবেশন তত্ত্বাবধানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘আমাদের উচিত শিশুদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা এড়িয়ে চলা এবং তাদের আচরণ ও সমাজে তাদের পুনরায় একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াটি বোঝা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে সমবয়সীদের নেতিবাচক চাপ একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে।

শুনানির সময় প্রথম ভুক্তভোগী কিশোরী আদালতে নিজের লেখা একটি কবিতা পাঠ করে, যেখানে সে তার চরম মানসিক বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরে বলে, সে আর বেঁচে থাকতে চায় না। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত অভিযুক্ত কিশোরদের মায়েদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। এই রায় নিয়ে স্থানীয় মানবাধিকার ও নারী অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission