images

আন্তর্জাতিক / এশিয়া

চীনে কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৮

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ , ১০:৩৫ এএম

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত আটজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩৮ জন শ্রমিক খনির মাটির নিচে আটকা পড়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে খনির ভেতর তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। 

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, শানসি প্রদেশের চাংঝি শহরের লিউশেনিউ কয়লা খনিতে গত শুক্রবার (২২ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সময় ওই খনির ভেতরে অন্তত ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। 

সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, খনিতে দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে। শনিবার (২৩ মে) সকাল ৬টার মধ্যে খনির ভেতর থেকে অন্তত ২০০ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করে ওপরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো মাটির নিচে আটকে আছেন ৩৮ জন শ্রমিক। তাদের জীবিত উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আরও পড়ুন
CITY

নদী, বন, বিমানবন্দর কিংবা সেনাবাহিনী ছাড়াও টিকে আছে যেসব দেশ

ভয়াবহ এই খনি দুর্ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি এই ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শানসি প্রদেশ চীনের প্রধান কয়লা খনির অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আয়তনের দিক থেকে ইউরোপের দেশ গ্রীসের চেয়েও বড় এই প্রদেশে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বসবাস। গত বছরও এই প্রদেশটি থেকে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে, যা চীনের মোট কয়লা উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতী্যাংশ।

তবে শানসি প্রদেশের খনি শিল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও শ্রমিক সংগঠনের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রদেশের বিভিন্ন কয়লা খনিতে হাজার হাজার ছোট-বড় দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। লভ্যাংশ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় খনি মালিকদের নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করার প্রবণতাই এসব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। 
 
আরটিভি/এআর