ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নদী, বন, বিমানবন্দর কিংবা সেনাবাহিনী ছাড়াও টিকে আছে যেসব দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক বিশ্বের একটি দেশের কথা ভাবলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নদী, বনভূমি, কৃষিজমি, বিমানবন্দর কিংবা শক্তিশালী সেনাবাহিনীর ছবি। কিন্তু পৃথিবীর সব দেশ এক রকম নয়। ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, জলবায়ু ও ইতিহাসের কারণে এমন অনেক দেশ রয়েছে, যেখানে এসব গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের এক বা একাধিকই অনুপস্থিত। তবুও সেসব দেশ নিজস্ব ব্যবস্থায় টিকে আছে এবং উন্নয়নও করছে।

নিচে এমন কিছু ব্যতিক্রমধর্মী দেশের তালিকা তুলে ধরা হলোঃ

নদীবিহীন সবচেয়ে বড় দেশ

বিশ্বে এমন কয়েকটি দেশ রয়েছে, যেখানে স্থায়ী কোনও নদী নেই।

সৌদি আরব: প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে নদীবিহীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ।

ইয়েমেন: ৫ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৮ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে।

ওমান: ৩ লাখ ৯ হাজার ৫০১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশ তালিকায় তৃতীয়।

কুয়েত: প্রায় ১৭ হাজার ৮১৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশও নদীহীন।

বনভূমিহীন সবচেয়ে বড় দেশ

কিছু দেশে বনভূমির পরিমাণ অত্যন্ত কম, কোথাও আবার কার্যত বনই নেই।

গ্রিনল্যান্ড: ২১ লাখের বেশি বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে বনভূমিহীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভূখণ্ড।

ওমান: বনভূমির স্বল্পতার কারণে তালিকায় দ্বিতীয়।

কাতার: মরুভূমিপ্রধান এই দেশে বনভূমি প্রায় নেই বললেই চলে।

সান মারিনো: ক্ষুদ্র এই ইউরোপীয় রাষ্ট্রটিও বনভূমিহীন দেশের তালিকায় রয়েছে।

কৃষিজমিহীন দেশ

জনবহুল হলেও কিছু দেশে কার্যত কোনও কৃষিজমি নেই।

সিঙ্গাপুর: ৭২১.৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগররাষ্ট্র কৃষিজমিহীন দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়।

মোনাকো: বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্র ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ।

ভ্যাটিকান সিটি: বিশ্বের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র, যেখানে কৃষিকাজের সুযোগ নেই।

বিমানবন্দরহীন দেশ

নিজস্ব বিমানবন্দর ছাড়াও কিছু দেশ আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে পাশের দেশের ওপর নির্ভর করে।

অ্যান্ডোরা: বিমানবন্দর না থাকা দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়।

লিশটেনস্টাইন: ছোট আয়তনের এই দেশটিরও নিজস্ব বিমানবন্দর নেই।

সান মারিনো: ৬১.২ বর্গকিলোমিটার আয়তন এবং প্রায় ৩৩ হাজার ৪০০ জনসংখ্যার এই দেশ তালিকায় তৃতীয়।

মোনাকো: ২০২ হেক্টর আয়তন এবং প্রায় ৩৮ হাজার ৭০০ জনসংখ্যা নিয়ে এর অবস্থান চতুর্থ।

ভ্যাটিকান সিটি: ৪৪ হেক্টর আয়তন এবং ১ হাজার জনসংখ্যার ভ্যাটিকান সিটি বিমানবন্দরহীন পঞ্চম বৃহত্তম দেশ।

সেনাবাহিনীহীন দেশ

বিশ্বে কয়েকটি দেশ রয়েছে, যাদের কোনও স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই।

আইসল্যান্ড: স্থায়ী সেনাবাহিনী ছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ।

পানামা: ১৯৯০ সালের পর দেশটি সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে।

কোস্টারিকা: দীর্ঘদিন ধরেই সেনাবাহিনী ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে।

ভানুয়াতু: প্রায় ১৩ বর্গকিলোমিটার আয়তন এবং ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৪ জনসংখ্যার ভানুয়াতু তালিকায় চতুর্থ।

মরিশাস: ২ হাজার ৪০ বর্গকিলোমিটার আয়তন এবং ১২ লাখ ৬৫ হাজার জনসংখ্যার এই দেশ তালিকায় পঞ্চম।

মোনাকো: ২০২ হেক্টর আয়তন এবং ৩৮ হাজার ৬৯৫ জন জনসংখ্যা নিয়ে এই তালিকায় মোনাকো ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।

পাহাড়-পর্বতহীন বা অত্যন্ত সমতল দেশ

বিশ্বের কিছু দেশ এতটাই সমতল যে তাদের সর্বোচ্চ বিন্দুও খুব কম উচ্চতার।

ডেনমার্ক: দেশটির সর্বোচ্চ বিন্দুর উচ্চতা মাত্র ১৭১ মিটার।

কাতার: কাতারের সর্বোচ্চ বিন্দুর উচ্চতা ১০৩ মিটার।

গাম্বিয়া: দেশটির সর্বোচ্চ বিন্দুর উচ্চতা মাত্র ৫৮ মিটার।

মালদ্বীপ: মালদ্বীপের সর্বোচ্চ বিন্দুর উচ্চতা মাত্র ২ মিটার।

উপকূলহীন সবচেয়ে বড় দেশ

সমুদ্রসৈকত বা মহাসাগরের সংযোগ ছাড়াও টিকে আছে বহু বড় রাষ্ট্র।

কাজাখস্তান: ২৭ লাখ ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে এটি সমুদ্র উপকূলহীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ।

মঙ্গোলিয়া: ১৫ লাখ ৬৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে তালিকায় এর অবস্থান দ্বিতীয়।

চাদ: ১২ লাখ ৮৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে চাদ তালিকায় তৃতীয়।

নাইজার: ১২ লাখ ৬৮ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে অবস্থান চতুর্থ।

মালি: ১২ লাখ ৪১ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে এটি উপকূলহীন পঞ্চম বৃহত্তম দেশ।

ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্থানহীন দেশ

জাতিসংঘের ইউনেস্কো স্বীকৃত কোনও বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান নেই এমন দেশও রয়েছে। এই তালিকায় সবচেয়ে বড় দেশ।

সোমালিয়া: ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সোমালিয়া কোনও ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট না থাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ।

দক্ষিণ সুদান: ৬ লাখ ১৯ হাজার ৭৪৫ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দেশটি।

গায়ানা: ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৬৯ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে গায়ানার অবস্থান তৃতীয়।

লাইবেরিয়া: ১ লাখ ১১ হাজার ৩৬৯ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে লাইবেরিয়া এই তালিকায় চতুর্থ বৃহত্তম দেশ।

অলিম্পিক পদকহীন জনবহুল দেশ

বড় জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও কিছু দেশ এখনো অলিম্পিকে কোনও পদক জিততে পারেনি।

বিপুল জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত অলিম্পিকে কোনও পদক না পাওয়া কিছু দেশ:

বাংলাদেশ: ইউএসএ টুডে-এর তথ্য অনুসারে, ১৬ কোটি ৪৭ লাখ জনসংখ্যার বাংলাদেশ অলিম্পিক পদক না পাওয়া বিশ্বের সবচেয়ে জনসংখ্যাবহুল দেশ।

মিয়ানমার: দেশটির জনসংখ্যা ৫ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার, কিন্তু কোনও অলিম্পিক পদক নেই।

অ্যাঙ্গোলা: ২ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার জনসংখ্যার এই দেশের ঝুলিতেও কোনও পদক নেই।

মাদাগাস্কার: ২ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার জনসংখ্যা হলেও কোনও পদক পায়নি।

কম্বোডিয়া: ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের এই দেশেও কোনও অলিম্পিক পদক নেই।

বিশ্বের এসব দেশ প্রমাণ করে, একটি দেশের অস্তিত্ব ও উন্নয়ন কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ বা প্রচলিত অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও অনেক দেশ নিজেদের বিশেষ ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি ও কৌশলের মাধ্যমে টিকে আছে এবং বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পেছনে নিতে গিয়ে বাবার গাড়ির নিচে ৬ বছরের ছেলে, অতঃপর... 
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির সামনে গাড়ি পেছনে নেওয়ার সময় বাবার গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ছয় বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
পেছনে নিতে গিয়ে বাবার গাড়ির নিচে ৬ বছরের ছেলে, অতঃপর... 
ব্রহ্মপুত্রের উপর চিনের ৬০ হাজার মেগাওয়াটের মেগা ড্যাম প্রকল্প!
তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের উপরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করতে চলেছে চিন। প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মেডোগ প্রকল্প নিয়ে ভারত শুরু থেকেই কৌশলগত ও পরিবেশগত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
ব্রহ্মপুত্রের উপর চিনের ৬০ হাজার মেগাওয়াটের মেগা ড্যাম প্রকল্প!
জার্মানিতে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত
জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্প্যাংডাহলেম বিমানঘাঁটির একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার আগে পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
জার্মানিতে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত
আইসিসির সব সদস্যকে পদত্যাগের আহ্বান ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিকে একটি ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ প্রতিষ্ঠান বলে আখ্যা দিয়ে এর সব সদস্যকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আইসিসির সব সদস্যকে পদত্যাগের আহ্বান ট্রাম্পের
বাংলাদেশে খুনের মামলা ধামাচাপা দিতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার ১
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলীয় নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রভাবিত করা এবং পুলিশের চূড়ান্ত নথি থেকে নিজের নাম কাটার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার ঘুষ দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিল ও ফৌজদারি তদন্তের গতিপথ পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার আদালতে মামলা ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) নিশ্চিত করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্রিসবেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের রেডব্যাঙ্ক প্লেইনসের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি নিহত নারীর পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি (বাংলাদেশি) সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ বাংলাদেশে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার সূত্রপাত ঘটনাটির শুরু হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিস (কিউপিস) এএফপির কাছে একটি প্রতিবেদন হস্তান্তর করে জানায়, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এক নারী বাংলাদেশে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। রিপোর্টটি পাওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় খোঁজ শুরু হয়। তবে ঠিক তার পরদিনই বাংলাদেশ পুলিশ অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষকে জানায়, তারা বাংলাদেশে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ পুলিশের ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়, মৃত্যুটি স্বাভাবিক ছিল না এবং এটি একটি ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’। অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের বিদেশে অবস্থানকালে হত্যা, অপমৃত্যু বা গুরুতর ক্ষতির শিকার হওয়ার ঘটনাগুলোর বিচারে অস্ট্রেলিয়ার ‘ক্রিমিনাল কোড’ বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে এএফপির। এর ভিত্তিতে এএফপির বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সংস্থাটির নিজস্ব আলাদা একটি তদন্তকাজ শুরু করে, যা বাংলাদেশ পুলিশের চলমান তদন্তের পাশাপাশি আলাদাভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। দুই বছরের পরিকল্পনা ও ৯০ হাজার ডলার লেনদেন এএফপির গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ দুই বছর ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মোট প্রায় ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ) বাংলাদেশে পাঠান। এই অর্থ পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মৃত্যুর ঘটনার মূল তদন্তকে নিজের অনুকূলে প্রভাবিত করা এবং বাংলাদেশ পুলিশের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড থেকে তাঁর নাম পুরোপুরি বাদ দেওয়া। তদন্ত জোরদার করতে এএফপির কর্মকর্তারা সিডনি ও ব্রিসবেনের একাধিক শীর্ষস্থানীয় আর্থিক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক তল্লাশি চালান। সে সময় আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের গোপন রেকর্ড, ডিজিটাল ট্রানজেকশন তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বাজেয়াপ্ত করা হয়। দীর্ঘ দুই বছরের নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর, গতকাল (২১ সেপ্টেম্বর) কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাঙ্ক প্লেইনস এলাকার দুটি আবাসিক ভবনে একযোগে অভিযান চালায় এএফপির বিশেষ দল। অভিযানকালে ওই ৫১ বছর বয়সী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি তাঁর ঘর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ফৌজদারি কার্যবিধির ৭০.২(১) ধারায় বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অস্ট্রেলীয় আইন অনুযায়ী, এই ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। এএফপি জানিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনে বিদেশি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার দায়ে তাদের ইতিহাসে এ ধরনের মামলা প্রথম হলেও, অপরাধটির ভয়াবহতার বিচারে এটি একটি ঐতিহাসিক আইনি দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘুষ ও দুর্নীতি দমনে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান এই তদন্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর থেকে এএফপির বৈদেশিক ঘুষ ও দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘টাস্কফোর্স সোলারিস’। এটি বহু বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ মাল্টিডিসিপ্লিনারি দল, যা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে কাজ করে। এএফপি ‘ব্রাইবারি প্রিভেনশন নেটওয়ার্ক’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এটি ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং সরকারি সংস্থার একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবসা ও সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে। ঘটনাটি নিয়ে এএফপির কমান্ডার স্টিফেন জয় এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় কিংবা বিদেশে—যেকোনো জায়গাতেই বিচারিক বা তদন্তপ্রক্রিয়াকে দুর্নীতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এএফপি এ জাতীয় কর্মকাণ্ডকে বিন্দুমাত্র সহ্য করবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিই—বিশেষ করে যখন কোনো গুরুতর অপরাধের তদন্তের ফল পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালানো হয়। যারা অর্থ দিয়ে বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে বা প্রভাব খাটাতে চাইবে, তাদের আইনগত জবাবদিহির মুখোমুখি হতেই হবে।’ কমান্ডার জয় জানান, আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে এএফপি নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। অস্ট্রেলীয় পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, নাম কাটাতে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটির বিপরীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বাংলাদেশি নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর মূল তদন্তটি এখনো শেষ হয়নি। আরটিভি/এসআর
বাংলাদেশে খুনের মামলা ধামাচাপা দিতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার ১
আরও পড়ুন
ভালুকায় কয়েকশত কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি উদ্ধার
মৌলভীবাজারে সংরক্ষিত বনভূমিতে উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে অপপ্রচার, বিএফএ’র প্রতিবাদ
উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা: মির্জা ফখরুল
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যে ৩০০ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত