images

আন্তর্জাতিক / ভারত

বোনকে ফোনের পাসওয়ার্ড পাঠিয়ে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর আত্মহত্যা

রোববার, ২৪ মে ২০২৬ , ১০:৫৫ এএম

ভারতের কর্ণাটক অঙ্গরাজ্যের বেঙ্গালুরুতে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ২৬ বছর বয়সী ওই গৃহবধূর নাম লক্ষ্মী প্রিয়া। আত্মহত্যার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি নিজের মোবাইল ফোনের পাসওয়ার্ড ছোট বোনকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর থেকেই নিহতের পরিবার অভিযোগ করছে, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের ১১ মে মাইসুরুতে রাজেশ আরাধ্যার সঙ্গে লক্ষ্মী প্রিয়ার বিয়ে হয়। রাজেশ বেঙ্গালুরুর মারাথাহাল্লির এইচএএল থানায় একজন কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আছেন।

আরও পড়ুন
4

যুক্তরাষ্ট্রে গণহারে চাকরি হারাচ্ছেন ভারতীয়রা, কী কারণ  

লক্ষ্মী প্রিয়ার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই কনস্টেবল রাজেশ, তার বাবা পালাক্ষারাধ্যা ও মা ভাগ্যম্মা মিলে যৌতুকসহ নানা কারণে লক্ষ্মী প্রিয়ার ওপর নিয়মিত অমানুষিক নির্যাতন চালাতেন। একপর্যায়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে কন্যাসন্তান জন্মের পর প্রায় ছয় মাস ধরে বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন লক্ষ্মী প্রিয়া। সম্প্রতি তিনি আবারও স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, গত ২২ মে দুপুর ২টা ৩১ মিনিটে লক্ষ্মী প্রিয়া হঠাৎ তার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে নিজের মোবাইল ফোনের আনলক পাসওয়ার্ড ছোট বোন জয়শ্রীকে পাঠান। কোনো বার্তা ছাড়া শুধু পাসওয়ার্ড দেখে পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বারবার রিং হলেও লক্ষ্মী প্রিয়া আর ফোন ধরেননি। এর কিছু সময় পরই স্বামী রাজেশ আরাধ্যা ফোন করে লক্ষ্মী প্রিয়ার পরিবারকে জানান যে তিনি মারা গেছেন। এই ঘটনায় লক্ষ্মী প্রিয়ার পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং যৌতুক নিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

এদিকে কর্ণাটকের বাল্লারিতে প্রায় একই ধরনের আরেকটি নির্মম ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ২৪ বছর বয়সী ঐশ্বর্যা নামে এক নারী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মানসিক নির্যাতন এবং অতিরিক্ত যৌতুকের দাবি সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, গত ১৭ মে বাল্লারি জেলার কাম্পলি শহরে বাবার বাড়িতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আত্মহত্যার আগে লিখে যাওয়া একটি চিরকুটে (সুইসাইড নোট) ঐশ্বর্যা তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতন ও পণের দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছেন। এই ঘটনায় করা মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ঐশ্বর্যার স্বামী প্রদীপ কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে। দুটি ঘটনারই বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কর্ণাটক পুলিশ।

আরটিভি/এআর