যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা। চাকরি হারানোর কারণে অনেকেই এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের যে ঢেউ শুরু হয়েছে, তাতে ভারতীয় কর্মীরা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি আরও বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কড়া ভিসা নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পর নির্দিষ্ট একটি সময়ের মধ্যে নতুন চাকরি খুঁজে নিতে হয়, অন্যথায় দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই বিশেষ ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীকে স্পন্সর করে থাকে। ফলে চাকরি চলে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে আইনিভাবে অবস্থান বজায় রাখতে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরশিপের প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমান মন্দা পরিস্থিতিতে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া এবং তাদের কাছ থেকে স্পন্সরশিপ আদায় করা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে সনাতন কর্মী চাহিদায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে এবং অনেকের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনায় এই সংকট দ্রুত ঘনীভূত হচ্ছে।
এতে শুধু প্রযুক্তিবিদদের চাকরিই যাচ্ছে না, বরং এর বড় প্রভাব পড়ছে প্রবাসী পরিবারগুলোর ব্যক্তিগত জীবনেও। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক ভারতীয় সেখানে স্থায়ীভাবে পরিবার গড়েছেন, সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়াশোনা করাচ্ছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের জীবন সাজিয়েছেন। হুট করে চাকরি হারানোর কারণে এখন সেই পারিবারিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরটিভি/এআর




