বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬ , ১২:৫১ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবার ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। একইসঙ্গে দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কুয়েতে যেসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, সেগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুর হামলা রুখে দেওয়ার ফল।
তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং জনগণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘ শান্তি আলোচনার মধ্যেই গত তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে সামরিক স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি তারা হুমকি তৈরি করা চারটি ইরানি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে।
সেন্টকমের দাবি, বন্দর আব্বাসের যে সামরিক স্থাপনাটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সেখান থেকে পঞ্চম আরেকটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল। ওয়াশিংটন তাদের এই পদক্ষেপকে পরিমিত, সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার অংশ হিসেবে দাবি করলেও, এই হামলা বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বশেষ হামলার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আধা-সরকারি তাসনিম বার্তাসংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের ওপর হওয়া মার্কিন 'আগ্রাসনের উৎস' হিসেবে চিহ্নিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে তারা স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে ওই ঘাঁটিটির অবস্থান তারা উল্লেখ করেনি।
এছাড়া, আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজকেও পিছু হটতে বাধ্য করেছে। এই সামগ্রিক সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আরটিভি/এমএম