সোমবার, ০১ জুন ২০২৬ , ০৩:৫৭ পিএম
স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত অনেক নারী ভবিষ্যতে কেমোথেরাপি ছাড়াই নিরাপদে চিকিৎসা নিতে পারবেন বলে নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। গবেষকদের উদ্ভাবিত একটি ডিএনএভিত্তিক জিন পরীক্ষা নির্ধারণ করতে পারবে কোন রোগীর জন্য কেমোথেরাপি কার্যকর হবে, আর কার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন নেই।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় যুক্তরাজ্যসহ ছয়টি দেশের ৪ হাজারের বেশি নারী অংশ নেন। গবেষণায় ‘প্রোসিগনা’ নামের একটি জিন পরীক্ষা ব্যবহার করা হয়, যা স্তন ক্যানসারের বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত ৫০টি জিনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ধারণ করে।
ফলাফলে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি রোগী শুধু হরমোন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে কেমোথেরাপির প্রয়োজন এড়াতে পেরেছেন। কম ঝুঁকির রোগীদের কেমোথেরাপি দেওয়া হয়নি, তবুও তাদের পাঁচ বছর পর বেঁচে থাকার হার ছিল ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ যা কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশের কাছাকাছি।

বর্তমানে স্তন ক্যানসারের সাধারণ চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারের পর অনেক সময় কেমোথেরাপি দেওয়া হয় যাতে রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি কমে। তবে কেমোথেরাপির কারণে ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, চুল পড়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া এবং প্রজননসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, নতুন এই পদ্ধতি চিকিৎসাকে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও কার্যকর করে তুলতে পারে। গবেষণা দলের প্রধান এবং ইউসিএল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক রব স্টেইনের মতে, টিউমারের জৈবিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে চিকিৎসা নির্ধারণ রোগীদের অপ্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক চাপ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া যুক্তরাজ্যের ৬৪ বছর বয়সী কারেন বনহ্যাম প্রোসিগনা পরীক্ষার মাধ্যমে কেমোথেরাপি এড়াতে পেরেছেন। তিনি বলেন, এই ফলাফল তার জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা ছিল।
তবে ইউসিএল জানিয়েছে, গবেষণার ফলাফল ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে আরও কয়েক বছর গবেষণা প্রয়োজন হবে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম ক্যানসার সম্মেলন আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির বার্ষিক সভায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
আরটিভি/এসকে