images

আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্য / যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করতে পারে: ট্রাম্প

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ০৫:১৫ পিএম

ইরানের কাছে যে ৪০০ কেজি বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আছে, যুক্তরাষ্ট্র তা ‘চাইলেই দখল করতে পারে’ বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া ‘অযৌক্তিক’ হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত দখল করা কঠিন কিছু নয়। আমরা চাইলেই তা দখল করতে পারি। যদি আমরা সেই মজুত নিতে অগ্রসর হই, আমার মনে হয় না তারা আটকাতে পারবে।

তবে এ ধরনের অভিযানের প্রয়োজনীয়তা নাকচ করে তিনি আরও বলেন, কিন্তু সেটা অযৌক্তিক হবে। আমার মনে হয়, এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান দীর্ঘকালীন উত্তেজনার প্রধান কারণ এই ইউরেনিয়াম। জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)-এর তথ্য অনুসারে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পরিশুদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশুদ্ধতার মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করা গেলেই তা দিয়ে একের পর এক পরমাণু বোমা তৈরি করা সম্ভব।

আরও পড়ুন
8

বেরিং প্রণালি ঘিরে ঐতিহাসিক চুক্তি করতে যাচ্ছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, বোমা তৈরির উদ্দেশ্যেই পরমাণু প্রকল্পের আড়ালে ইরান ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে ইরান এই অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তবে ইরানের এই ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ঠিক কোথায় রাখা আছে, তা এখনো একটি বড় রহস্য। যুক্তরাষ্ট্র চায় তেহরান এই পরমাণু উপাদান ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করুক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে, তার অন্যতম প্রধান কারণও এই ইউরেনিয়াম হস্তগত করা বলে জানা গেছে।

মতবিনিময়কালে হোয়াইট হাউসে উপস্থিত সাংবাদিকরা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়েও প্রশ্ন করেন। মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠকে তার কোনো আপত্তি আছে কি না, জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দেন।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি নিজে যেচে দেখা করতে আগ্রহী নই, কিন্তু কখনও সাক্ষাৎ ঘটে— আমি সম্মানিত বোধ করব। 

তিনি আরও বলেন, যদি আমরা ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে আসতে পারি, তাহলে তার সঙ্গে আমার সাক্ষাতের সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে আমি রাজি আছি, অন্তত আমার তরফ থেকে কোনো আপত্তি নেই।

আরটিভি/এআর