বেরিং প্রণালির নিচ দিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার টানেল নির্মাণ প্রকল্পের নকশা প্রণয়নের কাজ অব্যাহত রাখতে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
শুক্রবার (৫ জুন) এই চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রয়েভ।
দিমিত্রয়েভ বলেন, মস্কো ও ওয়াশিংটন এখনো দুই দেশকে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘পুতিন-ট্রাম্প টানেল’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প হবে। টানেলের নকশা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিতে আজ চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই টানেল প্রকল্প সম্পর্কে আগামীকাল আরও নতুন খবর পাওয়া যাবে।
কিরিল দিমিত্রিয়েভ আরও জানান, তিনি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তবে উইটকফ বা কুশনার কেউই প্রকাশ্যে এই ফোনালাপের বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করেননি। রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাত্র গতকালই এই ফোনালাপ হয়েছে এবং এতে মূলত দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে রুশ দূত বলেন, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন পক্ষ শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং অব্যাহত উসকানি ও মুখোমুখি অবস্থান এড়িয়ে ইউক্রেনকে শান্তির পথে এগিয়ে যেতে বলছে।
দিমিত্রিয়েভ জানান, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিভিন্ন অর্থনৈতিক উদ্যোগ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্য লাভজনক এমন বিভিন্ন প্রকল্পে, বিশেষ করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে, মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, মস্কো ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসংক্রান্ত আলোচনা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
পেসকভ আরও বলেন, ইউক্রেন যদি প্রকৃত শান্তি আলোচনা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে শান্তি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতে থাকে, তাহলে রাশিয়া তার সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার (৩ জুন) বলেছেন, মস্কো ও কিয়েভ উভয় পক্ষই আপস করতে অনিচ্ছুক হওয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা এখনো খুবই ক্ষীণ।
আরটিভি/এআর




