images

আন্তর্জাতিক / বিশেষ প্রতিবেদন

হিজবুল্লাহর হুঁশিয়ারি; ইসরায়েল সেনা না সরালে হবে না কোন যুদ্ধবিরতি

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ০৭:৫৬ পিএম

Failed to load the video

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আশা জাগলেও, নতুন করে আবারও ঘনিয়ে উঠেছে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েল যে যুদ্ধবিরতির পথে এগোচ্ছিল, সেটি শুরুতেই খেল বড় ধাক্কা। কারণ, সেই প্রস্তাব সামনে আসতেই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির স্পষ্ট বার্তা ইসরায়েলি সেনারা যত দিন লেবাননের মাটি ছাড়বে না, তত দিন অস্ত্রও নামাবে না তারা। ফলে নতুন করে যুদ্ধবিরতির আশা দেখা দিলেও, আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেল পুরো অঞ্চল। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, লেবানন ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে শর্ত ছিল, হিজবুল্লাহকে হামলা বন্ধ করতে হবে ও সীমান্তবর্তী দক্ষিণ লেবানন থেকে নিজেদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু এই শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি সংগঠনটি। কারণ একই সময়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আর তেল আবিব স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। আর এটিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় অচলাবস্থার কারণ।

হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি লেবাননের জনগণকে ধ্বংস ও অধীনস্থ করার একটি পরিকল্পনা। তাঁর ভাষায়, ‘যত দিন দখলদারি থাকবে, তত দিন প্রতিরোধও চলবে।’

আরও পড়ুন
20

আমেরিকা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে চীনের পথে হাঁটছে ইউরোপ!

অন্যদিকে ইরানও সরব হয়েছে এই ইস্যুতে। তেহরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সঙ্গেও এখন জড়িয়ে গেছে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের সংঘাত।

হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম বলেন, যুদ্ধবিরতির আওতায় অবশ্যই দক্ষিণ লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ সেখানে ইসরায়েল তথাকথিত একটি ‘বাফার জোন’ গড়ে তুলেছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি লেবাননের গ্রামগুলোতে হামলা চলতে থাকে এবং মানুষ হত্যা অব্যাহত থাকে, তাহলে উত্তর ইসরায়েলের শহরগুলোও নিরাপদ থাকবে না।

অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের একজন শীর্ষ কমান্ডার জানিয়েছেন, যেকোনো সমাধানের ন্যূনতম শর্ত হলো ইসরায়েলকে যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।

এর আগে গেলো ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান পাল্টা জবাব দেয়। এরপর ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। তারপর থেকে একাধিকবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও থামেনি সীমান্তের সংঘর্ষ। 

আরটিভি/এআর