ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

আমেরিকা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে চীনের পথে হাঁটছে ইউরোপ!

সুপ্তি রায়, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

এবার ডেটা প্রযুক্তিতে চীনের পথেই কি হাঁটছে ইউরোপ? প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনলাইন দুনিয়ায় তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে মার্কিন সার্চ ইঞ্জিন গুগল। কিন্তু এবার সেই গুগলকেই নিজেদের দাপ্তরিক কম্পিউটার থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপ। গুগলের বদলে নিজেদের ফরাসি সার্চ ইঞ্জিন কুয়ান্ট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।

সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স ও পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব জোরদার এবং ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতেই নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। ৪ জুন থেকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কম্পিউটারগুলোতে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে গুগলের জায়গা নেবে কুয়ান্ট। ঠিক যেন নিজস্ব প্রযুক্তিতে চীনের পথে হাঁটতে চাইছে ইউরোপ!

পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো এক ইমেইলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং ইউরোপের ডিজিটাল স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই আনা হচ্ছে এই পরিবর্তন।

আরও পড়ুন

কর্মকর্তারা জানান, কুয়ান্ট এমন একটি সার্চ ইঞ্জিন, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য জমা করে না বা তারা কী খুঁজছে, সেটিও নজরদারি করে না।

জানা গেছে, মাইক্রোসফট এজ এবং মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে কোনো কিছু খুঁজলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কুয়ান্টের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তবে আইনপ্রণেতারা চাইলে গুগলসহ অন্য যেকোনো সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করতে পারবেন কিংবা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ডিফল্ট সেটিংস পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।

তবে শুধু সার্চ ইঞ্জিন বদলেই থেমে থাকছে না ইউরোপ। ক্লাউড সেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চিপ উৎপাদনেও নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। লক্ষ্য একটাই— মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের নিজস্ব প্রযুক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী করা।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক মুখপাত্র বলেছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত ও শক্ত অবস্থানে নেওয়ার পথে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ ইউরোপের প্রয়োজনীয় সব সামর্থ্যই আছে। তাদের আছে মেধাবী মানুষ, আছে শক্তিশালী শিল্পভিত্তি, নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বাজার; পাশাপাশি তাদের স্টার্টআপ ও স্কেল-আপ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা।

বর্তমানে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ৭২০ জন আইনপ্রণেতাসহ কয়েক হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করেন। ফলে গুগলের বদলে কুয়ান্ট ব্যবহারের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে হাজার হাজার ব্যবহারকারীর ওপর। ফলে এটি হবে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীনের মতো নিজেদের প্রযুক্তি ও ডেটার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার পথে ইউরোপের একটি বড় পদক্ষেপ।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাধুসঙ্গে নিজেকে ও অজানাকে জানছেন লালন ভক্তরা
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ আধ্যাত্মিক এই বাণীকে সামনে নিয়ে একতারা, দোতারা আর ঢোল বাশির সুরে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে লালন ফকিরের ভবের হাট। 
সাধুসঙ্গে নিজেকে ও অজানাকে জানছেন লালন ভক্তরা
নজর কাড়ছে ৪০ কেজি শস্যদানার দুর্গাপ্রতিমা
দূর থেকে মনে হচ্ছে যেন সোনালি চাদরে মোড়ানো দেবী দুর্গা। কিন্তু একি কাছে যেতেই পুরো ভিন্ন চিত্র। এ কোনো আবরণ নয় প্রতিমার পুরো শরীরজুড়ে রয়েছে ছোট ছোট শস্যদানা, তাও আবার সেটি নাকি মানুষের নয় পরিচিত পাখির খাবার হিসেবেই। যা আবার ফলে বিদেশের মাটিতে। ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা তৈরি করে নজির গড়েছেন নাটোরের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। 
নজর কাড়ছে ৪০ কেজি শস্যদানার দুর্গাপ্রতিমা
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
বাবা, এক বটবৃক্ষের নাম। সন্তানের সবরকম ভাল থাকার উৎস, সেটিই যেন আবারও প্রমাণিত এই বাচ্চাদের কণ্ঠে। চারদিকে যখন বিরাজ করছে পূজার আমেজ তখন এই কোমলমতি শিশুদের চোখে পানি, আর কণ্ঠে আক্ষেপ। এ বছর যেন উৎসবের দিনগুলোতে নতুন জামার চেয়েও বড় অভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের বাবা। তাই আনন্দের সময়ও যেন থামছেই না তাদের কান্না।
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
ভিডিওর এই শিশুরা সবাই প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। যাদের এখন সহপাঠীদের সাথে ছুটোছুটি করার কথা বিদ্যালয়ের মাঠে। অথচ পানি জমে থাকায় তারা পারছে না খেলতে, কেউ আবার যেতে পারে না টয়লেটেও। আবার পানি পেরিয়ে ক্লাসে যেতে গিয়ে ভিজে যায় কারও পোশাক। বই-খাতায় লেগে যায় কাদা। অভিযোগের যেন শেষ নেই কোমলমতি এই শিশুদের। 
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
হরমুজ সংকটে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর। কিন্তু সেই পথও এখন রয়েছে হামলার ঝুঁকিতে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই তেলবন্দর রক্ষায় এবার সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। শুধু সেনা নয়, সঙ্গে যাচ্ছে রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।  মাখোঁ জানান, ইয়ানবু রক্ষায় সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ফ্রান্স। সেই চুক্তির আওতায় সেখানে পাঠানো হবে ফরাসি সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে মাখোঁ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। ফরাসি সেনাদের পাঠানো হচ্ছে ইয়ানবু রক্ষার জন্য, চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সৌদি আরবের একটি বন্দর রক্ষায়  কেন সেনা পাঠাতে হচ্ছে ফ্রান্সকে? এর পেছনে বড় কারণ হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবুর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল নিয়ে যাওয়া হয় লোহিত সাগরের এই বন্দরে। সেখান থেকে হরমুজ এড়িয়ে সরাসরি তেল পাঠানো সম্ভব আন্তর্জাতিক বাজারে। কিন্তু সম্প্রতি সেই ব্যবস্থাও খেয়েছে বড় ধাক্কা। ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এর আগে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে ইয়ানবু দিয়ে তেল রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইপলাইনটি আবার চালু করা হয়েছে সীমিত পরিসরে।  ফলে ইয়ানবুর নিরাপত্তা এখন শুধু সৌদি আরবের বিষয় নয়। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও বন্দরটির গুরুত্ব বেড়েছে বন্দরটির। আর ফ্রান্সও অনুভব করছে জ্বালানি সংকটের চাপ। মাখোঁ বলেন, আগামী শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে তাঁর সরকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে। এমন খবর সত্য হলে তার ফল বিশ্ব ও মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। যদিও হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে এমন কোনো পরিকল্পনার কথা। আরটিভি/এআর 
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
আরও পড়ুন
ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হ‌লো ৩৫ বাংলাদেশিকে
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দেশের ৫০০ মেরিন ক্যাডেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ
জ্বালানির দামে ক্ষোভ, ইউরোপে বাড়ছে কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ওপর হামলা, চাপে ইসরায়েল