রোববার, ০৭ জুন ২০২৬ , ০৭:৫৮ পিএম
ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপিকাকে হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ৩ দিন পর চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, অধ্যাপককে হত্যা করতে তারা প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লিতে এসে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
রোববার (৭ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
নিহত অধ্যাপিকার নাম দেবস্মিতা পাল। তিনি দিল্লির শিবাজি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।
বুধবার (৩ জুন) পূর্ব দিল্লির বাসুধারা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে তার ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পরই ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বংশ্রী দাস নামে দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতে হাজির করা হবে এবং পরবর্তী তদন্তের জন্য দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রানজিট রিমান্ড চাওয়া হতে পারে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা মুখোশ পরে একটি ক্যাবে করে ঘটনাস্থলে আসে এবং সিসিটিভিতে তাদের প্রবেশ ধরা পড়ে। তারা সিঁড়ি দিয়ে ষষ্ঠ তলায় উঠে ভুক্তভোগীর ফ্ল্যাটে ঢোকে এবং সঙ্গে আনা অস্ত্র দিয়ে ওই শিক্ষককে হত্যা করে। সন্দেহ এড়াতে তারা তাদের নাবালক ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আসে।
কর্মকর্তারা জানান, তারা বন্ধুত্বপূর্ণভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে।
ঘটনার প্রায় ৩০ মিনিট পর তারা পোশাক পরিবর্তন করে নিচে অপেক্ষমাণ ক্যাবে করে পালিয়ে যায়। ওই হাউজিং কমপ্লেক্সে আসা ২০০ জনের মধ্য থেকে অন্তত ১৩ জন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের সাতটি দল চারটি রাজ্য জুড়ে অভিযান চালিয়ে শত শত লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাদের শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের দাবি, নিহত অধ্যাপকের পশ্চিমবঙ্গে একটি মূল্যবান সম্পত্তি ছিল। আর সেই বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন অভিযুক্তরা এবং তারা সেটি দখল নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে ওই শিক্ষক তাদের বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কারণেই দম্পতিটি ভুক্তভোগীর সম্পত্তি দখলের লক্ষ্যে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
ঘটনার পর নিহতের বোন দেবারতি বারবার যোগাযোগ করতে না পেরে ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ দেখতে পান। তার মাথায় গভীর আঘাত এবং কব্জির শিরা কাটা ছিল। ফ্ল্যাটে কোনো লুটপাটের চিহ্ন না থাকায় প্রাথমিকভাবে ডাকাতির সম্ভাবনা নাকচ করে পুলিশ। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং পুলিশ বলছে, বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান, জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাত্র তিন দিনের মধ্যেই মামলার অগ্রগতি হয়েছে।
আরটিভি/এমএম