ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ নিয়ে এখন পর্যন্ত নীরব রয়েছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। তবে জোটসঙ্গীসহ কয়েকটি বিরোধী দল ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সিজেপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে সিজেপি। একই সঙ্গে দাবিটি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সরকারকে সাত দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। দলটির প্রধান যুক্তরাষ্ট্রে পড়ুয়া অভিজিৎ দিপকের ডাকে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি দেশজুড়ে আলোড়ন তুললেও কংগ্রেস নেতারা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নীরব রয়েছেন।
দলীয় সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কংগ্রেসের একটি অংশের ধারণা-সিজেপির পেছনে আম আদমি পার্টির (এএপি) সমর্থন থাকতে পারে। এ কারণে দলটি আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতারা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপির ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। টেলিভিশন বিতর্কে তাদের অনেক বেশি সময় দেয়া এবং রাজধানীতে বিক্ষোভের অনুমতি পাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে তাদের দলের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মস বিভাগের প্রধান সুপ্রিয়া শ্রীনাত সিজেপির নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, তারা দৃঢ়ভাবে জেন-জি বা জেনারেশন জেডের পাশে রয়েছেন।
গত এক মাসে এনএসইউআই ও ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারি এবং সিবিএসই মূল্যায়নসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে ৫০টির বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বলেও জানান তিনি। সিজেপির চলমান বিক্ষোভ নিয়ে কংগ্রেস চুপ থাকলেও তাদের মিত্র সমাজবাদী পার্টি (এসপি), তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি), শিবসেনা (ইউবিটি), আরজেডি, সিপিআই (এমএল) ও সিপিআইয়ের (এম) মতো দলগুলো স্বাগত জানিয়েছে এই বিক্ষোভকে।
রাজ্যসভার তৃণমূলের উপনেতা সাগরিকা ঘোষ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ক্ষুব্ধ তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনকে তার দল সমর্থন করে এবং এটি সরকারের জন্য একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার সতর্কবার্তা। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। বাচ্চারা (শিক্ষার্থীরা) আত্মহত্যা করেছে, তবুও কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি।
আরজেডি মুখপাত্র মৃত্যুঞ্জয় তিওয়ারি বলেন, আরজেডি ও আমাদের নেতা তেজস্বী যাদব প্রশ্নপত্র ফাঁসের ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন। গণতন্ত্রে প্রত্যেকেরই প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। লোকসভা সদস্য রাজীব রাই বলেন, এটি সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তরুণেরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন, যা সরকারের আত্মসমালোচনার কারণ হওয়া উচিত।
এছাড়া তেলাপোকাদের কখনোই অবমূল্যায়ন করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। তিনি বলেন, যাদের আমরা দেশের ভবিষ্যৎ ও ভাগ্যনির্ধারক বলি তারা নিজেদের যন্ত্রণা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থেকে তীব্র গরমের মধ্যেও রাস্তায় নেমেছেন।
দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, এই বিক্ষোভ তরুণদের ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, তাদের দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়ার পরিবর্তে মোদি সরকারের উচিত তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করা। আপ তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানায়। প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে হবে।
সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে সশরীরে যোগ দেন। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত এবং শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান সংকটের জন্য তাকে আনা উচিত জবাবদিহির আওতায়।
সুত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আরটিভি/টিআর




