মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ০১:৫১ পিএম
রক্তাক্ত দুটি মানুষ ছটফট করছেন রাস্তার ধারে। ব্যথায় কুঁকড়ে যাওয়া এক নারী আর তার নিথরপ্রায় স্বামী পড়ে আছেন তপ্ত পিচের ওপর। অথচ তাঁদের বাঁচানোর কোনো আকুতি ছুঁয়ে গেল না পাশে জমা হওয়া শত শত মানুষকে। চোখের সামনে যখন মৃত্যুর মুখোমুখি এই দম্পতি, তখন উপস্থিত জনতার পুরো মনোযোগ কেড়ে নিল কেবলই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু কাঁচা-পাকা আম। নিস্পৃহ একদল মানুষ মগ্ন হলেন আম লুটের উৎসবে। ভারতের বিহার রাজ্যের মুজাফফরপুরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি কেবল একটি তাজা প্রাণই কেড়ে নেয়নি, বরং আরও একবার উলঙ্গ করে দিয়ে গেছে আধুনিক সমাজের বুক চিরে জেগে ওঠা এক চরম ও কুৎসিত মানবিক অবক্ষয়কে।
সোমবার (১৫ জুন) ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের ঝড় শুরু হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিহারের জাতীয় সড়ক-২৭-এর ওপর দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি উল্টে পড়ে আছে। রক্তাক্ত মানুষ পাশে কাতরালেও উপস্থিত লোকজন যে যেভাবে পারছেন রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আমের স্তূপ থেকে আম কুড়িয়ে নিয়ে পালাচ্ছেন।
স্থানীয় পুলিশের ভাষ্যমতে, ৪০ বছর বয়সী অজয় পাসোয়ান তার স্ত্রী সান্তারা দেবীকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আমবোঝাই করে মুজাফফরপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের গাড়িটি উল্টে গেলে দুজনেই গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় ওই দম্পতি দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় পড়ে থাকলেও সেখানে ভিড় জমানো সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো তাগিদ বা ন্যূনতম মানবিকতা দেখা যায়নি। উল্টো সবাই ব্যস্ত ছিলেন বিনামূল্যে আম ঘরে তুলতে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজয় পাসোয়ানের মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী সান্তারা দেবী বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
মুজাফফরপুরের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা রাকেশ কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই দম্পতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। আম লুটের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও লজ্জাজনক ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরটিভি/এআর