বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ , ১০:০৭ পিএম
সিন্ধু সভ্যতার হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো প্রত্নস্থল খনন করে চার হাজার বছরের আগের পাওয়া ‘ডান্সিং গার্ল’ আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি সেই ‘ডান্সিং গার্ল’ মূর্তি ক্লাস সিক্স-এর সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যবইয়ে ‘সেন্সর’ করা ছবি প্রকাশ্যে আসতেই ভারতজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯২৬ সালে মহেঞ্জোদারোর এইচআর অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা মূর্তিটি ভারতের স্বাধীনতার শুরুর দিক থেকেই বার বার বিতর্কের মধ্যে জড়িয়েছে। তার মধ্যে বহু বিতর্ক ‘অশ্লীলতার’ সংজ্ঞা নিয়েই। সে বছর এই মূর্তিটি আবিষ্কারের পর এটিকে অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে রাখা হয়েছিল। তখন দিল্লিতে ‘সেন্ট্রাল ইম্পিরিয়াল মিউজিয়াম’ তৈরি করছিল ব্রিটিশ সরকার। বর্তমানে মিউজিয়ামটি এখন দিল্লির ন্যাশনাল মিউজিয়াম নামে পরিচিত।
কারো কারো মতে, ডান্সিং গার্ল একটি শিল্পকর্ম এবং এটিকে শ্লীল-অশ্লীলের চশমা পরে বিচার করা উচিত নয়।
দেশটির ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)-এর টেক্সটবুক ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান মাইকেল ড্যানিও এসব বক্তব্যকে সমর্থন করেন।
তিনি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, নগ্নতা মানেই অশ্লীল- এই ভাবনা ভিক্টোরিয়ান নৈতিকতার অংশ। আমরা ঔপনিবেশিকতার থেকে ভারতীয় শিক্ষাকে মুক্ত করার কথা বলেও এই মূর্তিকে যদি যথাযথভাবে উপস্থাপন না করি, তাহলে বুঝতে হবে কোথাও একটা বড় সমস্যা রয়েছে।
ড্যানিও আরও বলেন, ক্লাস সিক্সের শিক্ষকদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছিলাম। কারও মনে হয়নি এই মূর্তি অশ্লীল। তবু আমাকে বলা হয়েছিল এই মূর্তি ক্লাস সিক্সের বাচ্চাদের জন্য উপযুক্ত নয়, আমাদের টিমও এই কথার সঙ্গে একমত হতে পারেনি।

তবে পাঠ্যবই থেকে কবে এই ছবি সরানো হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি এনসিইআরটি প্রধান।
প্রসঙ্গত, হরপ্পার রংপুর (গুজরাত) ও কোটলা নিহাং খান (পাঞ্জাব)-এর মতো কিছু ছোটো পুরাতাত্বিক অঞ্চল ভারতে পড়েছিল। কিন্তু মহেঞ্জোদারোর মতো বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলটি পাকিস্তানের অংশে পড়ে। যেহেতু হরপ্পা সভ্যতার সব নিদর্শন মহেঞ্জোদারো থেকেই পাওয়া গিয়েছিল এবং মহেঞ্জোদারো পাকিস্তানের অংশেই পড়ছিল, সেহেতু পাকিস্তান প্রথমে দাবি করেছিল সব পুরকীর্তিই যেন পাকিস্তানে ফেরানো হয়। পরে অবশ্য এএসআই-এর ডিরেক্টর জেনারেল মর্টিমার হুইলারের মধ্যস্থতায় ঠিক হয় যে, মহেঞ্জোদারো ও চানহুদারোয় প্রাপ্ত পুরাকীর্তিগুলো ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আধাআধি ভাগ হবে।
সেসময় পাকিস্তান দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূর্তি, ‘ডান্সিং গার্ল’ ও ‘প্রিস্ট কিং’ দুটিই দাবি করেছিল। কিন্তু ভারত যে কোনো একটি দিতে রাজি হয়। কিন্তু নগ্ন ‘ডান্সিং গার্ল’ সেই দেশের ধর্মীয় নৈতিকতার সঙ্গে খাপ খায় না বলে ‘প্রিস্ট কিং’ পাকিস্তানে চলে গেলেও ‘ডান্সিং গার্ল’ দিল্লির ন্যাশনাল মিউজিয়ামে রয়ে যায়।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/এমএম