শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ , ০৮:৪৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড আবারও আলোচনায় এসেছে। নিজের বন্ধুকে হত্যা করে তার গর্ভস্থ সন্তান ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এক নারী টানা ১০ মাস গর্ভবতী হওয়ার ভান করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে নেটফ্লিক্সের ট্রু-ক্রাইম প্রামাণ্যচিত্র “Maternal Instinct”।
মামলার নথি অনুযায়ী, টেইলর পার্কার নামে ওই নারী ২০২০ সালে ২১ বছর বয়সী রেগান সিমন্স-হ্যানকককে হত্যা করেন। একই সঙ্গে তার গর্ভে থাকা অনাগত কন্যাশিশুকে জোরপূর্বক বের করে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। শিশুটি পরে মারা যায়। এ ঘটনায় ২০২২ সালে পার্কারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, রেগান সিমন্স-হ্যানকক পার্কারকে অত্যন্ত বিশ্বাস করতেন। তিনি শুধু তার বন্ধু নন, বিয়ের ফটোগ্রাফারও ছিলেন। পাশাপাশি পার্কার নিজেকেও গর্ভবতী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। রেগান মনে করেছিলেন, দুজনই মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে পুরো বিষয়টিই ছিল একটি পরিকল্পিত প্রতারণা।
তদন্তকারীরা জানান, বহু বছর আগে পার্কারের জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়েছিল। ফলে তার গর্ভধারণ সম্ভব ছিল না। কিন্তু বিষয়টি গোপন রেখে তিনি কৃত্রিম বেবি বাম্প ব্যবহার করেন, ভুয়া আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্ট দেখান, সামাজিক মাধ্যমে গর্ভধারণের ছবি প্রকাশ করেন এবং এমনকি শিশুর লিঙ্গ প্রকাশের অনুষ্ঠানও আয়োজন করেন।
তদন্তে আরও উঠে আসে, প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার উদ্দেশ্যে তিনি এই ভুয়া গর্ভধারণের নাটক শুরু করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে তিনি মরিয়া হয়ে ওঠেন।
২০২০ সালের ৯ অক্টোবর গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে থাকা রেগানকে তার বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের দাবি, তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার আঘাত করা হয় এবং পরে তার গর্ভ থেকে শিশুটিকে বের করে নেওয়া হয়।
একই দিন পুলিশ পার্কারকে সন্দেহজনকভাবে গাড়ি চালানোর সময় আটক করে। তখন তিনি দাবি করেন, রাস্তার পাশেই তিনি সন্তান জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, তিনি সম্প্রতি সন্তান জন্ম দেননি। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, শিশুটি পার্কারের নয়, বরং নিহত রেগানের সন্তান।
বর্তমানে ৩৩ বছর বয়সী টেইলর পার্কার টেক্সাসে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক জেসিকা ডিমক বলেন, সব বিপদ বাইরে থেকে বোঝা যায় না। অনেক সময় তা পরিচিত মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। সূত্র: ইয়াহু
আরটিভি/এমএইচজে