সম্মতিপূর্ণ শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যাবে না: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ , ০৬:৪৩ পিএম


সম্মতিপূর্ণ শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যাবে না: এলাহাবাদ হাইকোর্ট
এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্মতিপূর্ণ সম্পর্ককে শুধুমাত্র বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার কারণে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

বিচারপতি বিবেক কুমার সিংয়ের একক বেঞ্চ অভিযুক্ত সঞ্জয় সরোজ ওরফে সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে চলমান ধর্ষণসহ অন্যান্য অভিযোগের বিচারিক কার্যক্রম বাতিল করে এই রায় দেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মামলায় উপস্থাপিত তথ্য ও পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের মধ্যে সম্পর্কটি ছিল সম্পূর্ণ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, যদি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী স্বেচ্ছায় ও পূর্ণ সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, তাহলে পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার কারণে সেই সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

আরও পড়ুন

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রতাপগড়ের এক নারী প্রয়াগরাজে আসেন। অভিযুক্ত, যিনি তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন, পড়াশোনা ও থাকার বিষয়ে তাকে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলতে থাকে।

২০১৯ সালে অভিযোগকারী নারী থানায় অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। পাশাপাশি তিনি মারধর ও হুমকির অভিযোগও তোলেন।

তদন্তে অভিযোগকারী আরও দাবি করেন যে অভিযুক্ত তার সঙ্গে একত্রে বসবাস করতেন এবং তাকে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেছিলেন। তবে চিকিৎসা পরীক্ষায় কোনো শারীরিক আঘাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করলে অভিযুক্ত হাইকোর্টে আবেদন করেন। শুনানিতে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্ককে শুধুমাত্র বিয়ে না হওয়ার কারণে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী একাধিক রায়ের উল্লেখ করে আদালত বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ তখনই প্রযোজ্য হতে পারে যখন প্রমাণিত হবে যে শুরু থেকেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি ছিল প্রতারণামূলক এবং সেই প্রতারণার ভিত্তিতেই সম্মতি আদায় করা হয়েছে।

আদালত আরও বলেন, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হলে আইনের অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে এই মামলায় ফৌজদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ন্যায়সঙ্গত হবে না বলে আদালত মত দেন। সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission