ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্মতিপূর্ণ শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যাবে না: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্মতিপূর্ণ সম্পর্ককে শুধুমাত্র বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার কারণে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

বিচারপতি বিবেক কুমার সিংয়ের একক বেঞ্চ অভিযুক্ত সঞ্জয় সরোজ ওরফে সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে চলমান ধর্ষণসহ অন্যান্য অভিযোগের বিচারিক কার্যক্রম বাতিল করে এই রায় দেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মামলায় উপস্থাপিত তথ্য ও পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের মধ্যে সম্পর্কটি ছিল সম্পূর্ণ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, যদি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী স্বেচ্ছায় ও পূর্ণ সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, তাহলে পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার কারণে সেই সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

আরও পড়ুন

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রতাপগড়ের এক নারী প্রয়াগরাজে আসেন। অভিযুক্ত, যিনি তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন, পড়াশোনা ও থাকার বিষয়ে তাকে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলতে থাকে।

২০১৯ সালে অভিযোগকারী নারী থানায় অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। পাশাপাশি তিনি মারধর ও হুমকির অভিযোগও তোলেন।

তদন্তে অভিযোগকারী আরও দাবি করেন যে অভিযুক্ত তার সঙ্গে একত্রে বসবাস করতেন এবং তাকে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেছিলেন। তবে চিকিৎসা পরীক্ষায় কোনো শারীরিক আঘাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করলে অভিযুক্ত হাইকোর্টে আবেদন করেন। শুনানিতে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্ককে শুধুমাত্র বিয়ে না হওয়ার কারণে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী একাধিক রায়ের উল্লেখ করে আদালত বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ তখনই প্রযোজ্য হতে পারে যখন প্রমাণিত হবে যে শুরু থেকেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি ছিল প্রতারণামূলক এবং সেই প্রতারণার ভিত্তিতেই সম্মতি আদায় করা হয়েছে।

আদালত আরও বলেন, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হলে আইনের অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে এই মামলায় ফৌজদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ন্যায়সঙ্গত হবে না বলে আদালত মত দেন। সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত
বাংলাদেশের সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত
ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি
ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি বিড়াল চুরি করে মাংসের জন্য বিক্রির অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে বিড়াল ধরার ফাঁদ, পশম তোলার মেশিন ও ডিজিটাল স্কেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি
যুক্তরাষ্ট্রে হামের রেকর্ড প্রাদুর্ভাব, নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা
বুধবার (৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে হামের রেকর্ড প্রাদুর্ভাব, নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা
ভারতের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভী আর নেই
ভারতের প্রখ্যাত আলেম, সাহিত্যিক ও দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা লখনৌর মুহতামিম মাওলানা ড. সাঈদুর রহমান আজমি নদভী ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগে তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতসহ উপমহাদেশের ধর্মীয় ও শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে দ্বীনি শিক্ষা, আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং ধর্মীয়-সাহিত্যিক সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভী দীর্ঘদিন দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার শিক্ষা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাধারা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। আনুমানিক ১৯৩৫ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের মউ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সাঈদুর রহমান। ১৯৫২ সালে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন তিনি। সেখানে মাওলানা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী হাসানি নদভী (রহ.)-সহ সে সময়ের খ্যাতিমান আলেমদের সান্নিধ্যে শিক্ষা লাভ করেন। আরবি ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন মাওলানা সাঈদুর রহমান। শিক্ষকতা ও ধর্মীয় শিক্ষাদানের পাশাপাশি লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বক্তা হিসেবেও তিনি পরিচিতি লাভ করেন। নদওয়াতুল উলামার ঐতিহ্যবাহী আরবি মাসিক ‘আল-বায়সুল ইসলামী’ পত্রিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। লেখালেখি ও সম্পাদনার মাধ্যমে আরবি ভাষা, ইসলামি জ্ঞান এবং নদওয়াতুল উলামার চিন্তাধারা পাঠকদের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা ও দ্বীনি সেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি.লিট. ডিগ্রি প্রদান করে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মে মাসে দীর্ঘদিনের শিক্ষা, দ্বীনি ও সাহিত্যিক অবদানের জন্য জয়পুরের জামিয়া হিদায়া তাকে আজীবন সম্মাননা দেয়। তার ইন্তেকালে আলেম, শিক্ষক, লেখক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন অনেকে। একই সঙ্গে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন তারা। আরটিভি/এসকে  
ভারতের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভী আর নেই
আবারও রাহুল-প্রিয়াংকাকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ
ভারতে অন্যায্যভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তুমুল পর্যায়ে পৌঁছেছে বিক্ষোভ। দ্বিতীয় দিনের মতো এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা। তবে, আগের দিনের মতো এবারও কংগ্রেসের নেতৃস্থানীয় এই দুই ভাই-বোনকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাহুল ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি আন্দোলনরত আরও অনেকজনকে টেনেহিঁচড়ে অপেক্ষমাণ পুলিশ বাসে তুলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। । এর আগে, গতকাল মঙ্গলবারও (৬ অক্টোবর) একই ইস্যুতে অবস্থান ধর্মঘটে বসার পর গান্ধী পরিবারের এই ভাই-বোনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। বুধবার (৭ অক্টোবর) দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টা করলে আবারও বাধা দেয় পুলিশ। পূর্বানুমতি না নেওয়ার অজুহাতে তাদের আটকে দেওয়া হয়। এদিন দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় কৌশল নির্ধারণী মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে সংসদ সদস্যরা যন্তরমন্তরের দিকে রওনা হলে পুলিশ রাস্তা অবরোধ করে। শুরুতে রাহুল গান্ধীসহ শীর্ষ নেতাদের একটি বাসে নিয়ে বসানো হয়। কিন্তু পুলিশ যখন অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের আটক করতে যায়, তখন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বাস থেকে নেমে রাস্তার ওপরই বসে পড়েন। পুলিশ বারবার সরে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা রাস্তায় বসে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাস্তায় শুয়ে পড়ে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কি এভাবে আচরণ করা হয়? এটি নজিরবিহীন। আমরা এখান থেকে এক চুলও নড়বো না।’ পরবর্তীতে পুলিশ দুই ভাই-বোনকে টেনেহিঁচড়ে জোরপূর্বক বাসে তুলে থানায় নিয়ে যায়। আরটিভি/এসএইচএম
আবারও রাহুল-প্রিয়াংকাকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ
আরও পড়ুন
মুখে কাপড় বেঁধে নারী শ্রমিককে দলবদ্ধ ধর্ষণ, অতঃপর...
আবারও রাহুল-প্রিয়াংকাকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ
দুর্গোৎসব ঘিরে ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে আ.লীগ: রাশেদ খাঁন
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে নারীকে গণধর্ষণ