images

আন্তর্জাতিক

চারটি বিশাল গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান পেল মিয়ানমার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ , ১১:১৫ এএম

মিয়ানমারের সমুদ্রাঞ্চলে চারটি নতুন অফশোর গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির সামরিক সরকার জানিয়েছে, এই আবিষ্কার দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সংকট কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন গ্যাস ক্ষেত্রগুলো আয়েয়ারওয়াদি ও তানিনথারই অঞ্চলের অফশোর রিজার্ভ এলাকায় অবস্থিত। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চারটি ক্ষেত্র মিলিয়ে মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত প্রায় ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) হতে পারে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্যাস ক্ষেত্রটি তানিনথারইয়ের গভীর সমুদ্র এলাকায় অবস্থিত। সেখানে প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার সম্ভাব্যতা প্রায় ৯০ শতাংশ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে আয়েয়ারওয়াদি অঞ্চলে আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্রে প্রায় ১৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত থাকতে পারে এবং এর সম্ভাব্যতা প্রায় শতভাগ বলে দাবি করা হয়েছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ঘোষিত গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে তানিনথারই অঞ্চলের একটি ব্লকও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যেখানে পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদনে প্রায় ৯৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

আন্দামান সাগরের দক্ষিণ তানিনথারই উপকূলে কাদান দ্বীপের কাছে অবস্থিত এই ব্লকটির আয়তন প্রায় ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার। ২০১৫ সালে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কানাডিয়ান ফরসাইট গ্রুপ মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস প্রতিষ্ঠান এমওজিইয়ের সঙ্গে এ ব্লকের জন্য প্রোডাকশন-শেয়ারিং চুক্তি স্বাক্ষর করে।

২০১৭ সালের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মিয়ানমারের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত এ খাত থেকে আসতে পারে। সে সময় গ্যাস মজুদের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হিসেবে অনুমান করা হয়েছিল।

মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, নতুন গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর সম্পদ বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার শিল্প এবং অন্যান্য শিল্প খাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস সংস্থা এমওজিই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায় প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আরও পড়ুন
greenspan

১০০ বছর বয়সে মারা গেলেন মার্কিন অর্থনীতির রূপকার গ্রিনস্প্যান

জ্বালানি খাতে এই বড় আবিষ্কার মিয়ানমারের অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র : দ্য ইরাবতী

আরটিভি/এসকে