বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ , ০৪:৪০ পিএম
যুদ্ধ অবসানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণার সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
বুধবার (২৪ জুন) আজারবাইজানে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা কোনো চাপ বা জবরদস্তির ফল নয়; বরং এটি সাহসী ইরানি জাতির দীর্ঘদিনের প্রতিরোধ ও শক্তিমত্তার ঐতিহাসিক ফলাফল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকটি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণায় পরিণত হয়েছে।’ মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব এই অঞ্চলের দেশগুলোরই হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে বুধবার (১৭ জুন) দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফা ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছায়। এই চুক্তির মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং দেশটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এই সমঝোতা স্মরকে আনুষ্ঠানিকভাবে সই করেন।
স্বাক্ষরিত এই চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। প্রায় ১৮ ঘণ্টার টানা ও নিবিড় আলোচনার পর মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ পাকিস্তান ও কাতারের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যকার এই আলোচনা অত্যন্ত ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি টেকসই প্রক্রিয়াও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারীরা আরও জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নিতে বিশেষজ্ঞ এবং বিশেষ কারিগরি কর্মীদল গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলো সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া এবং তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট কাঠামো নিয়ে কাজ করবে। এর পরপরই গত সোমবার (২২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ৬০ দিনের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল রপ্তানিতে ইরানের ওপর থাকা কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আরটিভি/এআর