images

আন্তর্জাতিক / যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামতে চেয়েছিল তিন পরাশক্তি, দাবি ট্রাম্পের 

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ০৪:৪৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে সরাসরি যুদ্ধে নামতে চেয়েছিল বিশ্বের তিন পরাশক্তি রাশিয়া, চীন ও তুরস্ক। তবে নিজের দূরদর্শী কূটনীতি ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের এই যুদ্ধযাত্রা থেকে থামিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শক্তিশালী এই তিন দেশের যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার বিষয়টিকে তিনি মার্কিন প্রশাসনের অবিশ্বাস্য ও চমকপ্রদ এক বৈশ্বিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বুধবার (২৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সময় বিশ্বের প্রভাবশালী তিন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে নিজের সফল যোগাযোগের কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ইরান সংকটের চরম মুহূর্তে এই শক্তিশালী তিন দেশের নিরপেক্ষ অবস্থান মূলত বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে। এই দেশগুলোর দূরদর্শী মনোভাবের কারণে তিনি তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ মূল্যায়ন জ্ঞাপন করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে তুরস্কের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই যুদ্ধে ইরানের পক্ষে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় দাবিদার ছিলেন, কারণ আপনারা সবাই জানেন যে তিনি ইসরায়েলকে খুব একটা পছন্দ করেন না। আমি তাকে এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম এবং তিনি আমার সেই অনুরোধ রেখেছেন।’ এরদোয়ানকে একজন অত্যন্ত শক্তিশালী ও চমৎকার সামরিক দূরদর্শিতাসম্পন্ন বিশ্বনেতা হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।

আরও পড়ুন
gaza

গাজায় গণহত্যার টার্গেটে এখন শিশুরা!

এর পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতিও নিজের গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চীনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা কি জানেন এই সময়ে আর কে সবচেয়ে দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি হলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি চাইলে খুব সহজেই ইরানের পক্ষে এই যুদ্ধে অংশ নিতে পারতেন; কারণ তার দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় অর্ধেক অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের ওই অঞ্চল থেকে। আমি তার অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা চিন্তা করে তাকে এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছিলাম এবং তিনিও সেই অনুরোধ রক্ষা করেছেন।’

রুশ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এই বড় সংঘাত থেকে নিজের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি সরিয়ে রেখেছিলেন বলে জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মস্কোর রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘আসলে পুতিনও এই যুদ্ধ থেকে দূরে ছিলেন। তবে যদি আপনারা বাস্তবিকভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন, তাহলে বলতেই হবে যে ভ্লাদিমির পুতিনের এই মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়ার মতো আরও কিছু নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা অন্য কাজ রয়েছে। তবে মূল কথা হলো তারা সবাই এই যুদ্ধ থেকে পুরোপুরি বাইরে ছিলেন, যা সত্যিই বেশ দারুণ এবং একটি বেশ আশ্চর্যজনক বিষয়।’

আরটিভি/এআর