ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় গণহত্যার টার্গেটে এখন শিশুরা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
ফাইল ছবি

ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের গাজা। কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও থামেনি ফিলিস্তিনি নিধন। চলমান এই গণহাত্যায় এখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিশুদের টার্গেট করছে ইসরায়েলি বাহিনী।

সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধান কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ এই তথ্য।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে নজিরবিহীন মৃত্যু, আঘাত ও মানসিক ট্রমার মুখোমুখি হচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুরা।

কমিশনের মতে, ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এখন শিশুদের নিশানায় পরিণত করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এমনকি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

অনুসন্ধান কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলিধর বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরেও গাজায় শিশুরা নিহত ও গুরুতর আহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনি শিশুদের সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা এবং যুদ্ধবিরতিকে ক্রমাগত উপেক্ষা করছে ইসরায়েল।

প্রতিবেদনে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া পরিস্থিতির বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ব্যাপক হামলা এবং মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা আটকে দেওয়ার ফলে ফিলিস্তিনি শিশুদের জীবন, স্বাস্থ্য ও বিকাশ; সর্বোপরি অস্তিত্ব ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।

হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ক্লিনিক ও প্রজনন কেন্দ্রগুলোতে ইসরায়েলি হামলার একটি নিয়মতান্ত্রিক চিত্র নথিবদ্ধ করেছে জাতিসংঘের কমিশন।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি দুই বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছিল গাজায়। তবে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শত্রুতা পুরোপুরি শেষ হয়নি, কেবল কিছুটা কমেছে।

যুদ্ধবিরতির আট মাস পরেও প্রায় প্রতিদিনই গাজায় বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সবশেষ এই ৮ মাস ২৫০ জনেরও বেশি শিশুসহ এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায়।

শুধু গাজাই নয়; অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমেও ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। পশ্চিম তীরে শিশুদের নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ এবং সম্মিলিতভাবে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম-এর তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ২৩৬ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। গাজা ও পশ্চিম তীর উভয় অঞ্চলেই শিশুদের ব্যাপকভাবে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক করার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, গাজার অনেক শিশুর খোঁজ এখনও মেলেনি।

আরও পড়ুন

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অধীনে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করার কথা ছিল। সেখান থেকে ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল ইসরায়েলের। কিন্তু, ইসরায়েল উল্টো তাদের আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েলি বাহিনী।

যুদ্ধবিরতির পর প্রথমে মানচিত্রে একটি সাময়িক ‘হলুদ রেখা’ দিয়ে দখলে থাকা এলাকা চিহ্নিত করেছিল ইসরায়েল। কিন্তু সেই রেখা ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে সরে গেছে। এর ফলে, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং ফিলিস্তিনিরা আরও ছোট জায়গায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, এই রেখা অতিক্রম করা বাসিন্দাদের জন্য নিষিদ্ধ। রেখার কাছাকাছি আসার কারণে শত শত মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখন আগের হলুদ রেখা ছাড়িয়ে নতুন জমি দখলের জন্য একটি ‘কমলা রেখা’ চিহ্নিত করা হয়েছে। এই রেখা ক্রমাগত পরিবর্তনের কারণে ফিলিস্তিনিদের জন্য, বিশেষ করে শিশুদের পক্ষে বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে যে এটি কোথায় শুরু আর কোথায় শেষ।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যেভাবে সৌদি আরবে স্ত্রী-সন্তান নিতে পারবেন প্রবাসীরা
প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটিতে কর্মরত কিংবা নতুন করে যারা যেতে চান। তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটিতে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এসেছে। এখন দেশটিতে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীরা তাদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের সৌদি আরবে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এতে জানানো হয়, যোগ্য দক্ষ প্রবাসী পরিবারের কর্তা হলে তার স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলে এবং অবিবাহিত মেয়েরা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। কর্মীর নিজস্ব কর্মসংস্থান ভিসার প্রক্রিয়া চলার পাশাপাশি এসব পরিবারের সদস্যের প্রবেশ ভিসার আবেদনও প্রক্রিয়াধীন রাখা যাবে। আগের ব্যবস্থায় সাধারণত প্রবাসী কর্মীদের নিজেদের কর্মসংস্থান ও আবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করার পর পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে নওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে দুটি প্রক্রিয়া একই সময়ে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যাদের নিতে পারবেন নতুন প্রক্রিয়ায় দক্ষ প্রবাসী কর্মীর পরিবারের তিন ধরনের সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— ১. স্ত্রী ২. ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলে ৩. অবিবাহিত মেয়ে তবে পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে প্রবেশের পরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবাসনের অনুমতি পাবেন না। দেশটিতে পৌঁছানোর পর সৌদি আইন, বিধি ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের আবাসন অনুমতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। মানতে হবে যেসব শর্ত প্রথমত, সংশ্লিষ্ট কর্মীকে যোগ্য দক্ষ প্রবাসী এবং পরিবারের কর্তা হতে হবে। এরপর সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী নিজের কর্মসংস্থান ভিসার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। নতুন ব্যবস্থায় পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই যোগ্য পরিবারের সদস্যদের প্রবেশ ভিসার আবেদন করা যাবে। পরিবারের সদস্যদের জন্য ভিসার আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়ক নথিপত্র দিতে হবে। আবেদন সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কর্মীর কর্মসংস্থান ভিসার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের প্রবেশ ভিসাও দেওয়া হতে পারে। তবে নতুন নিয়মে সৌদি ভিসার অন্যান্য শর্ত বাতিল করা হয়নি। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে। পরিবারের সদস্যরা প্রবেশ ভিসা পাওয়ার পর সেটির নির্ধারিত শর্ত ও মেয়াদ অনুযায়ী সৌদি আরবে যেতে পারবেন। দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাদের আবাসন অনুমতির প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। দক্ষ প্রবাসী কর্মীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দেশটিতে বসবাসকারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভারতীয় দক্ষ কর্মীদের জন্যও এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন ব্যবস্থায় তাদের নিজেদের কর্মসংস্থান ভিসার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করেই যোগ্য পরিবারের সদস্যদের প্রবেশ ভিসার প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। আরটিভি/টিআর
যেভাবে সৌদি আরবে স্ত্রী-সন্তান নিতে পারবেন প্রবাসীরা
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর
সৌদি আরবে অবস্থানরত অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রক্রিয়া আরও সহজ করল দেশটির সরকার। নতুন নিয়মে স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সঙ্গে নেয়ার সুযোগ থাকছে। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ বলছে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করল দেশটির সরকার। নতুন এই নিয়মে অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের কাজের ভিসার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের সৌদি আরবে আনার সুযোগ দিয়েছে দেশটির সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য সৌদি আরবে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ করা। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য বিদেশি কর্মীরা তাদের স্ত্রী বা স্বামী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সৌদি আরবে নিয়ে যেতে পারবেন। সংবাদমাধ্যম বলছে, পরিবারের যোগ্য সদস্যদের প্রবেশ ভিসা বিদেশি কর্মীর ওয়ার্ক ভিসার প্রক্রিয়া চলার সময়ই দেয়া যাবে। তবে এ জন্য আবেদনের সব শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ পরিবারকে সৌদি আরবে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নিজের ওয়ার্ক ভিসা পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী তাদের বসবাসের অনুমতিপত্র বা রেসিডেন্স পারমিট দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। আরটিভি/এসআর
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় বিমানবন্দর দুটির বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা
তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা
ইরান সীমান্তবর্তী তুরস্কের আগ্রি প্রদেশের দোগুবেয়াজিত জেলায় জাহাজের আকৃতির একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামো ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে গবেষণা। অনেকের বিশ্বাস, এটি নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ। সম্প্রতি সেখানে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান শেষ করেছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল। তবে এখনই নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। গবেষক দলের উপপ্রধান ও মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোনস জানান, অনুসন্ধানের সময় কাঠামোটির বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে ভূগর্ভের নমুনা নেওয়া হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির নিচে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উঠে এসেছে কাঠামোটি কোনো একক পাথরের খণ্ড নয়। আগে ধারণা করা হয়েছিল, শক্ত কোনো পাথর দীর্ঘদিনের ক্ষয়প্রক্রিয়ায় জাহাজের মতো আকৃতি ধারণ করেছে। কিন্তু কোর ড্রিলিংয়ের সময় বিভিন্ন গভীরতা থেকে ধারাবাহিকভাবে মাটির নমুনা পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ যে কাঠামোটি মানুষের তৈরি, এমন সিদ্ধান্তেও এখনই পৌঁছানো যাচ্ছে না। জোনস বলেন, ভূগর্ভে পাওয়া গাঢ় রঙের মাটি বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি পচে যাওয়া কাঠের অবশেষ কি না, নাকি অন্য কোনো প্রাকৃতিক বা মানবিক কর্মকাণ্ডের ফল ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পর তা জানা যাবে। গত আগস্টে পরিচালিত রাডার স্ক্যানেও কাঠামোর নিচে কিছু অস্বাভাবিক বস্তু বা গঠনের সংকেত পাওয়া গেছে। গত মে মাসে শুরু হওয়া সর্বশেষ গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলা। পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী এতে অংশ নেন। তেলচেকার ও উজেঙ্গিলি গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় টানা প্রায় ৯০ দিন ধরে চলে মাঠপর্যায়ের কাজ। গবেষকরা ওই এলাকার ভূখণ্ডের বিস্তারিত মডেল তৈরি করতে ড্রোন ব্যবহার করেন। মাটির নিচের গঠন শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয় আধুনিক রাডার ব্যবস্থা। বিভিন্ন স্থান থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কোর ড্রিলিংও করা হয়। এসব নমুনা ইতোমধ্যে পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। নূহ (আ.)-এর নৌকার সঙ্গে এই কাঠামোর সম্পর্কের দাবি অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তুরস্কের ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার ইলহান দুরুপিনার পূর্ব আনাতোলিয়া অঞ্চলে বিমান থেকে জরিপ চালানোর সময় প্রথম কাঠামোটির সন্ধান পান। এরপর থেকেই এটি নিয়ে তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকদের আগ্রহ তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যান্ড্রু জোনস। তিনি বলেন, গবেষণার কাজ এখনো শেষ হয়নি। রাডার থেকে পাওয়া তথ্য, মাটির নমুনা ও কোর ড্রিলিংয়ের ফলাফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে এ গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে পারে। অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত গবেষকদের হাতে রয়েছে কিছু অস্বাভাবিক ভূগর্ভস্থ গঠন ও মাটির নমুনা কিন্তু এগুলো নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ, এমন বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এসকে
তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা
সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান, তুরস্ক
নতুন স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সোমবার (৫ অক্টোবর) তিন দেশের পক্ষ থেকে যৌথভাবে ঘোষণা করা হয়।
সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান, তুরস্ক
আরও পড়ুন
হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
‘বিনামূল্যে খতনা’ কর্মসূচির পর হাসপাতালে ৫০ শিশু, ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ
‘এক মাসের মধ্যে ৩৫ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে’ 
শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার: ড. মঈন খান