images

আন্তর্জাতিক / ইউরোপ

স্পেনে ভয়াবহ তাপদাহে ৪ দিনে ২১২ জনের মৃত্যু

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ০৫:২৪ পিএম

ইউরোপের বড় অংশজুড়ে জেঁকে বসা রেকর্ড ভাঙা দাবদাহে চার দিনে স্পেনে ২১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত রোববার(২১ জুন) থেকে বুধবারের মধ্যে দেশটিতে এসব মানুষ মারা গেছেন বলে স্পেনের একটি সরকারি সংস্থা জানিয়েছে। খবর এএফপির। 

স্পেনে তীব্র দাবদাহে দৈনিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান সংগ্রহের পর অতীতের স্বাভাবিক মৃত্যুর হারের সঙ্গে তুলনা করে দেশটির মৃত্যু পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা মোমো। মৃত্যুর হার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাব্য বিভিন্ন কারণ খতিয়ে দেখতে সংস্থাটি বাহ্যিক বিভিন্ন বিষয়কেও বিবেচনায় নেয়। এর মধ্যে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা এইমেটের আবহাওয়ার তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

মোমোর তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র ঝুঁকিতে থাকা দেশটিতে এর আগে রেকর্ড গরম পড়েছিল গত ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে। ওই বছরের জুন মাসের একই সময়ে (চার দিনে)  ৯৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

আরও পড়ুন
Web-Image

তীব্র তাপদাহে ইতালিতে মৃত্যু বেড়ে ৫

দেশটির সরকারি এই সংস্থা বলছে, স্পেনে গত বছরের ১৬ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গরমজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৮৩২ জনে পৌঁছেছিল। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৮৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

চলতি সপ্তাহে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে জুনের ইতিহাসে ১৯৫০ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ দৈনিক গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার(২২ জুন) গড় তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মঙ্গলবার(২৩ জুন) তা দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
 
এমনকি এই দুই দিন ১৯৫০ সালের পর থেকে জুনের সর্বোচ্চ গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডও ভেঙেছে। গত সোমবার সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ২০ দশমিক ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মঙ্গলবার ছিল ১৯ দশমিক ৮১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই ধরনের অতি উষ্ণ রাতের কারণে মানুষের ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে; যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

তীব্র এই আবহাওয়ার কারণে কান্তাব্রিয়া ও বাস্ক কান্ট্রিসহ উত্তর স্পেনের বেশ কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। সাধারণত এসব অঞ্চলে তীব্র গরম পড়ে না। তবে এবার সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। উত্তর অংশে তুলনামূলক কম মাত্রার হলুদ সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। তবে সেখানে বৃহস্পতিবারের মধ্যে আবহাওয়া সংক্রান্ত বেশিরভাগ সতর্কবার্তা তুলে নেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/এআর