images

আন্তর্জাতিক / আফ্রিকা

বিদেশিদের দেশ ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে জনগণের বিক্ষোভ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ , ১১:৩৯ এএম

দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনে বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ মিছিল করেন। কোথাও কোথাও বিক্ষোভের মধ্যে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে এরই মধ্যে হাজারো বিদেশি নাগরিক দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে গেছেন। হামলার আশঙ্কায় অনেক দোকানপাট বন্ধ রাখা হয় এবং বিদেশি কর্মীরাও কাজে যাননি।

এ পর্যন্ত সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হাজারো বিদেশিকে বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে। তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তিতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

আরও পড়ুন
Web-Image

এবার একাকীত্ব দূর করবে মানুষসদৃশ রোবট

AFP__20260630__B8RA6E6__v2__HighRes__TopshotSafricaPoliticsMigrationUnrest
ছবি: এএফপি

 

বিক্ষোভের আয়োজক জাসিন্তা নগোবেসে জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার দাবিতে আগামী ছয় মাস প্রতি সপ্তাহে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অবৈধ বিদেশিরা স্থানীয়দের চাকরি নিয়ে নিচ্ছেন এবং দেশের সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

যদিও বেশিরভাগ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল, তবুও বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জোহানেসবার্গের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ও সন্দেহভাজন অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। কোথাও কোথাও গুলির শব্দও শোনা যায়। পুলিশ লুটপাটের ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করেছে।

AFP__20260630__B8QN6N8__v6__HighRes__TopshotSafricaPoliticsMigrationUnrest
ছবি: এএফপি

 

কিছু এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের ঘরবাড়ি ও দোকানে হামলার খবরও পাওয়া গেছে। সহিংসতা ঠেকাতে দেশজুড়ে হাজারো পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, অবৈধ অভিবাসন নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাস্তব। তবে প্রতিবাদের নামে কাউকে ভয় দেখানো, ভাঙচুর বা সহিংসতার কোনো সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিবিরোধী হামলার ঘটনা বারবার ঘটছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ অভিবাসী বাস করছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ শতাংশ।


আরটিভি/জেএমএ