বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৫ পিএম
টোকিও থেকে নিউইয়র্ক, লন্ডন থেকে সিউল—বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের চোখ এখন জাপানের দিকে। চার দশকের ইতিহাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রার (ইয়েন) মান এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এক ডলারের জন্য এখন গুনতে হচ্ছে রেকর্ড ১৬২ দশমিক ৫০ ইয়েন।
টোকিওর নীতিনির্ধারকেরা মুখে বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও তাদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। এর আগে গত এপ্রিল ও মে মাসে বাজার ধরে রাখতে তাঁরা প্রায় ১২ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৭৪ বিলিয়ন ডলার) খরচ করেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাননি।
বিবিসি ও সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে ইয়েনের মান কমলেও সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যকার সুদহারের বিশাল ব্যবধান জাপানি মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ইয়েনের মূল্য এতটাই কমে গেছে যে ৪০ বছরের ইতিহাসে ডলারের বিপরীতে এর দর এখন সবচেয়ে কম।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েনকে শক্তিশালী করতে জাপান আবারও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারে। গত মাসেই দেশটি ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি; বরং চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই ইয়েন আরও দুর্বল হতে থাকে। অবশ্য সোমবার(২৯ জুন) কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল জাপানি মুদ্রা, তখন প্রতি ডলারের বিপরীতে গুনতে হচ্ছিল ১৬১ দশমিক ৯৩ ইয়েন। এটি ছিল ১৯৯৬ সালের পর সর্বনিম্ন দরের কাছাকাছি। কিন্তু তারপর আবারও নিচের দিকে ছুটতে শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতির এই মুদ্রা। মঙ্গলবার(৩০ জুন) আরও দুর্বল হয়ে ডলারের বিপরীতে এর বিনিময় হার দাঁড়ায় ১৬২ দশমিক ৫০ ইয়েনে।
এদিকে ইয়েনের এমন দুর্বল অবস্থান বেশ সংকটময় পরিস্থিতিতে ফেলেছে জাপানকে। দেশটিতে এক ধাক্কায় আমদানি খরচ বেড়েছে বহুগুণ।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইয়েনের এই ধারাবাহিক দরপতন রুখতে এবং মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন হলে যেকোনো কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা। বাজার বিশ্লেষকেরা অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যে ইয়েনকে শক্তিশালী করতে জাপান আবারও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে আভাস পাচ্ছেন।
অবশ্য ইয়েনের দাম কমলেও জাপানের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি খাত কিন্তু বেশ চাঙা। শক্তিশালী টেক চাহিদার কারণে টোকিও শেয়ারবাজারের নিক্কিই সূচক শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে দেশটিতে বড় বড় উৎপাদনকারীর আত্মবিশ্বাস এখন গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
আরটিভি/এআর