প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রথম বছরে ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের আয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৫৬ পিএম


প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রথম বছরে ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের আয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি
এআই ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর (২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী) ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত ব্যবসা থেকে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছেন। তার বাধ্যতামূলক বার্ষিক আর্থিক প্রকাশনা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

৯২৭ পৃষ্ঠার ওই বিশাল আর্থিক ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, তিনি কেবল একটি ‘মিম কয়েন’ থেকে ৬৩৫ মিলিয়ন বা ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রয়্যালটি পেয়েছেন। এই মিম কয়েনটি তিনি ওভাল অফিসে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে চালু করেছিলেন, যদিও পরে এর বাজারমূল্য ব্যাপকভাবে কমে যায়।

এ ছাড়া নিজের দুই ছেলে এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টো কোম্পানি ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ থেকে ট্রাম্প ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন। রিয়েল এস্টেট এবং ট্রাম্প-ব্র্যান্ডেড বিভিন্ন পণ্য থেকেও তিনি আরও কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। তবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি কোনো ব্যক্তিগত লাভ বা অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন না।

২০২৪ সালের তুলনায় এবার ট্রাম্পের ঘোষিত আয় অনেক বেশি। আগের বছর তিনি ৬০ কোটি ডলারের বেশি আয় ঘোষণা করেছিলেন। হোয়াইট হাউস বারবার জানিয়েছে, ট্রাম্প তার সব ব্যবসা ছেলেদের দ্বারা পরিচালিত একটি ট্রাস্টে রেখেছেন এবং এতে কোনো স্বার্থের সংঘাত নেই। 

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানীতে (ক্রিপ্টো ক্যাপিটাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড) রূপান্তর করেছেন। প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবার কখনোই স্বার্থের সংঘাতে জড়িত হননি।

তবে সমালোচকেরা এই বিপুল আয় নিয়ে নৈতিকতার প্রশ্ন তুলছেন। সাবেক হোয়াইট হাউস নৈতিকতাবিষয়ক আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বলেন, এটি একটি অসাধারণ ঘটনা এবং এখানে স্পষ্টতই স্বার্থের সংঘাত রয়েছে। আর্থিক বিশেষজ্ঞ উইল ওয়াকার-আর্নট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় ট্রাম্পের অর্থ উপার্জনের ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি পারিবারিক ক্রিপ্টো ব্যবসার মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ ঘরে তুলছেন।

আরও পড়ুন

নথিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের ক্রিপ্টো খাতের আয় তার ঐতিহ্যবাহী রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আয়ের চেয়েও অনেক বেশি। অবশ্য রিয়েল এস্টেট ও গলফ ক্লাব থেকেও তার ভালো আয় হয়েছে। তিনি মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে প্রায় ৭৭ মিলিয়ন ডলার এবং ফ্লোরিডার ডোরালে গলফ ক্লাব থেকে ১২২ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এ ছাড়া নিউ জার্সি, ফ্লোরিডা ও স্কটল্যান্ডের গলফ ক্লাবগুলো থেকেও প্রতিটি থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হয়েছে। ট্রাম্প ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য—ঘড়ি, বাইবেল, জুতা, সুগন্ধি ও গিটার—থেকে তিনি প্রায় ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার রয়্যালটি পেয়েছেন।

ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে নিজের আয় দেখিয়েছেন। তিনি তার জীবনের ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি সম্পর্কিত লাইসেন্স চুক্তি থেকে ১০ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার এবং এনএফটি বিক্রি থেকে ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন আইনি মামলার নিষ্পত্তি ও ক্ষতিপূরণ থেকে ট্রাম্প ৮৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে এবিসি থেকে ১৬ মিলিয়ন, সিবিএস থেকে ১৬ মিলিয়ন, মেটা থেকে ২৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন, ইউটিউব থেকে ২২ মিলিয়ন এবং এক্স (সাবেক টুইটার) থেকে ৮ মিলিয়ন ডলার। 

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এসব অর্থের একটি বড় অংশ ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি এবং ওয়াশিংটন ডিসির পার্ক সংরক্ষণে ব্যয় করা হবে।

মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের তথ্যমতে, ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৬ বিলিয়ন বা ৬০০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালে ছিল ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। 

ব্লুমবার্গের হিসাবে তার এই সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প ক্রিপ্টো শিল্পের প্রতি অত্যন্ত অনুকূল অবস্থান নেন। গত জুলাইয়ে তিনি ‘জিনিয়াস অ্যাক্ট’ আইনে স্বাক্ষর করেন, যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে ডিজিটাল সম্পদের ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission