বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৬:০৯ পিএম
গত সপ্তাহে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবনে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার নেপথ্য কারণ জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) চীন সরকার জানিয়েছে, দীর্ঘকালীন অনিদ্রা ও গভীর মানসিক হতাশা থেকে পাইলট নিজেই বিমানটি ভবনে ধাক্কা দিয়ে বিধ্বস্ত করেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পাইলটের মৃত্যু হয়েছে। ভবনে ধাক্কা দেওয়ার পর বিমানটি নিচে আছড়ে পড়লে আরও অন্তত ১৩ জন আহত হন।
অভিযুক্ত ওই পাইলটের নাম লিউ (৬৬) বলে জানিয়েছে চীন প্রশাসন। তিনি বেইজিংয়ের স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন।
বেইজিংয়ের চাওইয়াংয়ের স্থানীয় সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে,নিহত লিউর একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে তিনি একাধিকবার নিজের তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ও মৃত্যু কামনার কথা উল্লেখ করেছেন।
তদন্তকারীদের ধারণা,ওই পাইলট বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে একা বসবাস করছিলেন। এই মানসিক অবসাদ ও হতাশা থেকেই তিনি আত্মঘাতী এই পথ বেছে নেন।
আহত ১৩ জনের মধ্যে একজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। বাকিদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
ছোট আকৃতির ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে চীন সরকার পরবর্তীতে সেই ভিডিওর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। বেইজিংয়ের মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একটি বড় ভবনে বিমানের ধাক্কা দেওয়ার এই ঘটনাকে বিরাট নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই কারণেই চীন সরকার বিষয়টি শুরুতে কিছুটা আড়াল করার চেষ্টা করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১০৯ তলাবিশিষ্ট ওই উঁচু ভবনটি ‘চায়না ঝুন’ নামে পরিচিত। এটি দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের প্রধান সদর দপ্তর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ঘটনার দিন লিউ পিঙ্গু বিভাগের একটি বিমানবন্দর থেকে বিমান নিয়ে উড্ডয়ন করেন। প্রথমবার উড্ডয়নের সময় তার সঙ্গে একজন ক্রু থাকলেও দ্বিতীয়বার তিনি বিমানটি একাই আকাশে ওড়ান। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি নির্ধারিত রুটের বাইরে গিয়ে সরাসরি ভবনটিতে আঘাত করেন। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর আপাতত ছোট বিমান না ওড়াতে দেশের তিনটি বিমান সংস্থাকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে চীন সরকার।
আরটিভি/এআর