images

আন্তর্জাতিক

ক্ষুধার্ত সহযাত্রী পাকিস্তানি শুনেই খাবার ফেরত নিলেন ভারতীয় লেখিকা

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৮:২৫ পিএম

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেরই একটি জাতিগত বিদ্বেষের ঘটনা শেয়ার করে ডাবলিনপ্রবাসী ভারতীয় লেখিকা নিবেদিতা শুক্লাকে নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে এক ক্ষুধার্ত পাকিস্তানি যাত্রীকে শুধু তার দেশের পরিচয়ের কারণে খাবার না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন এই লেখিকা।  

গত ২৯ জুন দ্য হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

জানা গেছে, সেই পোস্টে পাকিস্তানি নাগরিকের প্রতি নিজের চরম বৈষম্যমূলক ও অমানবিক আচরণের কথা প্রকাশ করতেই ইন্টারনেটে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ‘দ্য মোমেন্টোস অব রুনঝ’ বইয়ের এই লেখিকা। 

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে নিজের ১০ ঘণ্টার একটি ট্রানজিটের অভিজ্ঞতার কথা এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে শেয়ার করেন নিবেদিতা। তিনি জানান, বিমানবন্দরে তিনি এমন এক ব্যক্তিকে দেখতে পান, যাকে দেখে তার আর্থিকভাবে অসচ্ছল মনে হয়েছিল। সহানুভূতিশীল হয়ে তিনি নিজের সঙ্গে থাকা খাবার নিয়ে ওই ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যান। কথোপকথনের শুরুতে নিবেদিতা হিন্দিতে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ডাবলিন থেকে এসেছেন কিনা। ব্যক্তিটি ইতিবাচক উত্তর দেন। এরপর যখন নিবেদিতা জানতে চান তার গন্তব্য কোথায়, তখন ব্যক্তিটি উত্তর দেন— করাচি, পাকিস্তান। আর এই উত্তর শোনার পরই তিনি খাবার না দিয়েই ঘুরে দাঁড়ান এবং নিজের আসনে ফিরে আসেন বলে দাবি করেন। শুধু তাই নয়, নিজের এক্স পোস্টটি তিনি শেষ করেন ‘যা মর’ (যাও, গিয়ে মরো) নামক একটি চরম আপত্তিকর ও নিষ্ঠুর হিন্দি বাক্যাংশ দিয়ে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

অফিসে বেঁচে যাওয়া চা-বিস্কুট নেওয়ায় ১৭ বছরের চাকরি হারালেন পিয়ন

এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে নিবেদিতার এই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং প্রায় ১৮ লাখ মানুষ এটি দেখেন। নিজের এমন বর্ণবাদী ও বিদ্বেষপূর্ণ আচরণকে কৃতিত্ব হিসেবে প্রচার করায় নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন এই লেখিকা।

রোহিণী সিং নামে একজন লিখেছেন, ভারতীয়রা যদি এমন জঘন্য আচরণ করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতিত্ব হিসেবে শেয়ার করে, তবে মানুষের মনে ভারতীয়দের প্রতি কেন ঘৃণা বাড়ছে তা নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

ইরেনা আকবর নামে অপর একজন লিখেছেন, তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন ভারতীয়দের ঘৃণা করা হয়। নিজের আচরণ দিয়েই তিনি নিজেই সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন।

কেউ কেউ বিষয়টিকে মনস্তাত্ত্বিক ‘প্রোজেকশন’ হিসেবে উল্লেখ করে লিখেন, আপনার প্রতিটি অভিযোগই আসলে আপনার নিজের চরিত্রের স্বীকারোক্তি।

আরটিভি/এমএইচজে