শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ , ০৩:২১ পিএম
প্রবল ঝড়ে বাড়ির উঠানে থাকা ৪০ বছর বয়সী এক গাছ শিকড়সুদ্ধ উপড়ে যায়। আর এতেই ভাগ্য বদলে গেছে ভারতের বেঙ্গালুরুর এনজি কেশরী (৮৫) নামে এক বৃদ্ধের।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে এনজি কেশরীর বাড়ির উঠানে প্রায় চার দশক ধরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি চন্দনগাছ চলতি বছরের জুন মাসে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় উপড়ে পড়ে। তবে এই ঘটনায় ক্ষতির মুখে পড়ার বদলে ভাগ্য খুলে যায় এই বৃদ্ধের। উপড়ে পড়া গাছটি তাকে এনে দেয় প্রায় ২৮ লাখ টাকা। পাশাপাশি, বছরের পর বছর ধরে গাছটির যত্ন নেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মানও লাভ করেন তিনি।
প্রায় চল্লিশ বছর আগে কেশরীর উঠোনে প্রাকৃতিক ভাবে একটি চন্দনগাছের চারা গজিয়ে ওঠে। গাছটিকে না সরিয়ে এর যত্ন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি এবং ধীরে ধীরে সেটি একটি পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিণত হয়। গাছটি যত বড় হতে থাকে ততই এর আকর্ষণ বাড়তে থাকে স্থানীয়দের মধ্যে। শুধু প্রকৃতিপ্রেমীদের নয়, চন্দনকাঠ চোরাকারবারি ও কাঠচোরদেরও নজর পড়েছিল এটির উপর। গাছটিকে সুরক্ষিত রাখতে কেশরী এর চারপাশে একটি মজবুত লোহার খাঁচা নির্মাণ করেন। তার এই দূরদর্শিতার ফলেই বছরের পর বছর ধরে মূল্যবান চন্দনগাছটি চুরি হয়নি।
জুন মাসে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সময় পাশের একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে চন্দনগাছটির উপর। ফলে সেটি উপড়ে যায়। মূল্যবান চন্দনকাঠটি নিজে বিক্রি বা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা না করে বৃদ্ধ নিয়মমাফিক সঙ্গে সঙ্গেই বন বিভাগকে বিষয়টি জানান। সরকারি নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়ার পর গাছটি মহীশূরের সরকারি চন্দনকাঠের ডিপোতে পাঠানো হয়। সেখানে পরিমাপ করে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চন্দনকাঠটির মোট ওজন প্রায় এক টন। পরবর্তী কালে সরকারি নিলামে এর মূল্য নির্ধারিত হয় প্রায় ২৮ লাখ টাকা। বছরের পর বছর ধরে চন্দনগাছ রক্ষা ও সংরক্ষণের স্বীকৃতি স্বরূপ, কেশরীকে ‘চন্দনকাঠ শিরোমণি’ পুরস্কারে ভূষিত করে কর্ণাটক সরকার। সূত্র: আনন্দ বাজার
আরটিভি/এমএইচজে