শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ , ০৪:৪৮ পিএম
প্রথমবারের মতো স্থূলতা কমানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধের খরচ বহন করতে যাচ্ছে অ্যামেরিকান সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ার।
সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানায়, বুধবার থেকে নতুন এই সুবিধা কার্যকর হয়েছে। এর ফলে যোগ্য সুবিধাভোগীরা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে মাসে ৫০ ডলার সহ-পরিশোধ করে ওষুধ নিতে পারবেন।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ার, যা এতদিন ফেডারেল আইনের কারণে স্থূলতার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ওষুধের ব্যয় বহন করতে পারত না। তবে হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান ডিপার্টমেন্ট-এইচএইচএস অনুমোদিত একটি অস্থায়ী ‘ব্রিজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সুবিধা চালু থাকবে।
নতুন এই কর্মসূচির আওতায় ফাউন্ডায়ো, জেপবাউন্ড, ওয়েগোভি ওষুধ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফাউন্ডায়ো ও ওয়েগোভি পিল প্রতিদিন খাওয়ার ট্যাবলেট।
অন্যদিকে ওয়েগোভি ও জেপবাউন্ড সপ্তাহে একবার নেওয়ার ইনজেকশন, যা শীতল পরিবেশে সংরক্ষণ করতে হয়। তবে জেপবাউন্ড-এর একক-ডোজ পেন ও ভায়াল এই কর্মসূচির আওতায় থাকবে না।
সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড-এর প্রশাসক মেহমেত ওজ এক বিবৃতিতে বলেন, উচ্চ মূল্যের কারণে অনেক প্রবীণ এতদিন এসব কার্যকর চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নতুন কর্মসূচি ওষুধগুলোকে আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করবে।
স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেকেএফ- এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রায় ৩৮ লাখ মেডিকেয়ার সুবিধাভোগী এই কর্মসূচির জন্য যোগ্য হতে পারেন।
সরকার ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, এক মাসের ওষুধের মূল্য ২৫০ ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে। রোগীদের দিতে হবে ৫০ ডলার সহ-পরিশোধ মূল্য । তবে এই অর্থ বার্ষিক ডিডাক্টিবলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে না।
ওষুধ পেতে হলে রোগীদের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। চিকিৎসককে প্রমাণ করতে হবে, রোগী নির্ধারিত শারীরিক ভর সূচক তথা বিএমআই ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত শর্ত পূরণ করেছেন।
যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী, বিএমআই ৩৫ বা তার বেশি হলে রোগী এই সুবিধা পাবেন। এদিকে, বিএমআই ৩০ থেকে ৩৫-এর মধ্যে হলে নির্দিষ্ট ধরনের হৃদ্যন্ত্রের অকার্যকারিতা, নিয়ন্ত্রণে কঠিন উচ্চ রক্তচাপ বা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ থাকতে হবে। আর বিএমআই ২৭ থেকে ৩০-এর মধ্যে হলে প্রিডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ইতিহাস কিংবা হাত বা পায়ের ধমনিতে ব্লকেজ থাকতে হবে।
তবে যাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস, মাঝারি থেকে গুরুতর স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ফ্যাটি লিভারের মতো রোগ রয়েছে, তারা এই কর্মসূচির আওতায় থাকবেন না। কারণ এসব ক্ষেত্রে মেডিকেয়ারের বিদ্যমান সুবিধার মাধ্যমেই জিএলপি-১ ওষুধের ব্যয় বহনের সুযোগ রয়েছে।
আরটিভি/ এসকেডি