ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

বেতন হিসেবে কর্মীদের মিলবে ঘাস, সামাজিক মাধ্যমে তুমুল হইচই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
প্রতীকী ছবি

পোল্যান্ডে নিজেদের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১০০টি ভেড়াকে ‘কর্মী’ হিসেবে রাখলো অটোমোটিভ সংস্থা ফোক্‌সভাগেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যিই ওই ১০০ ভেড়াকে পোল্যান্ডের পোজনানে থাকা সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজে লাগিয়েছে সংস্থাটি। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল হইচই চলছে।

‘অ্যাগ্রিভোল্টাইকস’ বা কৃষি ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবহারের একটি নতুন উদ্যোগের অংশ হিসাবে ওই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু কী কারণে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে ১০০ ভেড়াকে ‘চাকরি’তে রেখেছে সংস্থাটি।

জানা গেছে, পোজনানে নিজস্ব উৎপাদন কারখানার সৌর প্যানেলগুলির নীচে ঘাস খাওয়ানোর জন্য ফোক্‌সভাগেন ১০০টি ভেড়ার ওই পাল নিয়ে এসেছে।

একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথাগত ঘাস কাটার যন্ত্রের (লন-মোয়ার) পরিবর্তে আরও টেকসই বিকল্প ব্যবহারের পাশাপাশি একই জমিতে কৃষি এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি কী ভাবে সহাবস্থান করতে পারে, তা যাচাই করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হচ্ছে পোজনান ইউনিভার্সিটি অফ লাইফ সায়েন্সেস-এর সহযোগিতায়। পোজনান কারখানায় ৩১,০০০-এরও বেশি সৌর প্যানেলের নীচের গাছপালা বা ঘাস ব্যবস্থাপনার জন্য ফোক্‌সভাগেন যান্ত্রিক ঘাস কাটার পদ্ধতির বদলে ভেড়ার ওই পালকে কাজে লাগাচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রাঙ্গনের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াও, বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষিকাজ কীভাবে সফল ভাবে সহাবস্থান করতে পারে, সে সম্পর্কে আরও ভাল ধারণা লাভ করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এখন পর্যবেক্ষণ করছেন, ভেড়া চড়ানোর ফলে প্রাণীদের কল্যাণ, জীববৈচিত্র্য, মাটির গুণমান, গাছপালা এবং ওই এলাকার ক্ষুদ্র জলবায়ুর উপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে।

পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি খাতে ‘অ্যাগ্রিভোল্টাইকস’ একটি সম্ভাবনাময় পদ্ধতি হিসাবে উঠে এসেছে, যা একই জমিকে কৃষি এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন— উভয় কাজেই ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়।

আগের প্রকল্পগুলিতে মূলত সৌর প্যানেলের নীচে ফসল ফলানোর ওপর জোর দেওয়া হলেও, ফোক্‌সভাগেনের এই উদ্যোগটি গবাদি পশুকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সেই প্রকল্পকে আরও সম্প্রসারিত করেছে।

উল্লেখ্য পোজনানের ১৮.৩-মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ ও পরিচালনা করছে বার্লিন-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কোয়ান্টা এনার্জি’। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনগুলিতে এই কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে কারখানাটির বিদ্যুতের সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় এবং কারখানার সারা বছরের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ জোগান দেয় কেন্দ্রটি।

ফোক্‌সভাগেন পোজনানের ডিরেক্টর মারজেনা পিলিচ-গ্রনস্কা বলেন, “আজ এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কেবল পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎই সরবরাহ করছে না, বরং এটি জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় কৃষি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যে, আধুনিক শিল্পব্যবস্থা সহায়তাকারী একটি স্থানেও পরিণত হয়েছে। ভেড়া চড়ানোর এই প্রকল্পটি প্রমাণ করে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে কাজ করতে পারে।”

জানা গেছে, অভিজ্ঞ পালকদের তত্ত্বাবধানে শরৎকাল পর্যন্ত ভেড়াগুলি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রেই থাকবে। যান্ত্রিক উপায়ে ঘাস কাটার প্রয়োজনীয়তা দূর করার ফলে ভেড়া চড়ানোর এই পদ্ধতির মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং ক্ষতিকর পদার্থের নিঃসরণ কমবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

পাশাপাশি এটি কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলবে বলে দাবি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে ব্যাপক হইচই ফেলেছে ফোক্‌সভাগেনের এই পদক্ষেপ।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
মৃত্যুর পর দাফন বা সৎকারের রীতি দেশ ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন। তবে ইউরোপের কিছু অঞ্চলে একসময় প্রচলিত ছিল অদ্ভুত এক বিশ্বাস—কবর দেওয়া মৃত ব্যক্তিও নাকি ফিরে আসতে পারেন জীবিতদের মাঝে!
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
ধারের টাকা পরিশোধের জন্য গোয়ালের গরু বিক্রি করতে চেয়েছিলেন ট্রাকচালক চুন্নিলাল কুমাওয়াত (৫৬)। তবে এতে তার স্ত্রী চুঙ্কি দেবী (৫২) আপত্তি জানান।
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত এসব লঞ্চারের মাধ্যমে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনসংক্রান্ত নথিতে ‘এপিইউ-এল’ মডেলের ৯০টি লঞ্চার রপ্তানির আদেশের তথ্য রয়েছে। সেখানে ক্রেতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘কে-১০’ সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে এই সংকেত দিয়ে ইরানকে বোঝানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লঞ্চারগুলো রাশিয়ার এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা যায়। প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। আকাশে উড্ডয়নের সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। ফলে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হয়। এফটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে মস্কো। ‘সি৪৩০এল’ নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এর আগে ইরানের কাছ থেকে শাহেদ ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেও সহযোগিতা করছে মস্কো। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।  এ কারণে রুশ সামরিক সহায়তায় ইরানের সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আরটিভি/এসআর  
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ভুয়া তথ্যে করোনার ১৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান লুট, অভিযুক্ত মার্কিন নারী 
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাকালীন সরকারি আর্থিক সহায়তার ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার (১৮ মিলিয়ন ডলার) জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
ভুয়া তথ্যে করোনার ১৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান লুট, অভিযুক্ত মার্কিন নারী 
আরও পড়ুন
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?