পোল্যান্ডে নিজেদের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১০০টি ভেড়াকে ‘কর্মী’ হিসেবে রাখলো অটোমোটিভ সংস্থা ফোক্সভাগেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যিই ওই ১০০ ভেড়াকে পোল্যান্ডের পোজনানে থাকা সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজে লাগিয়েছে সংস্থাটি। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল হইচই চলছে।
‘অ্যাগ্রিভোল্টাইকস’ বা কৃষি ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবহারের একটি নতুন উদ্যোগের অংশ হিসাবে ওই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু কী কারণে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে ১০০ ভেড়াকে ‘চাকরি’তে রেখেছে সংস্থাটি।
জানা গেছে, পোজনানে নিজস্ব উৎপাদন কারখানার সৌর প্যানেলগুলির নীচে ঘাস খাওয়ানোর জন্য ফোক্সভাগেন ১০০টি ভেড়ার ওই পাল নিয়ে এসেছে।
একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথাগত ঘাস কাটার যন্ত্রের (লন-মোয়ার) পরিবর্তে আরও টেকসই বিকল্প ব্যবহারের পাশাপাশি একই জমিতে কৃষি এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি কী ভাবে সহাবস্থান করতে পারে, তা যাচাই করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।
এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হচ্ছে পোজনান ইউনিভার্সিটি অফ লাইফ সায়েন্সেস-এর সহযোগিতায়। পোজনান কারখানায় ৩১,০০০-এরও বেশি সৌর প্যানেলের নীচের গাছপালা বা ঘাস ব্যবস্থাপনার জন্য ফোক্সভাগেন যান্ত্রিক ঘাস কাটার পদ্ধতির বদলে ভেড়ার ওই পালকে কাজে লাগাচ্ছে।
পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রাঙ্গনের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াও, বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষিকাজ কীভাবে সফল ভাবে সহাবস্থান করতে পারে, সে সম্পর্কে আরও ভাল ধারণা লাভ করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এখন পর্যবেক্ষণ করছেন, ভেড়া চড়ানোর ফলে প্রাণীদের কল্যাণ, জীববৈচিত্র্য, মাটির গুণমান, গাছপালা এবং ওই এলাকার ক্ষুদ্র জলবায়ুর উপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে।
পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি খাতে ‘অ্যাগ্রিভোল্টাইকস’ একটি সম্ভাবনাময় পদ্ধতি হিসাবে উঠে এসেছে, যা একই জমিকে কৃষি এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন— উভয় কাজেই ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়।
আগের প্রকল্পগুলিতে মূলত সৌর প্যানেলের নীচে ফসল ফলানোর ওপর জোর দেওয়া হলেও, ফোক্সভাগেনের এই উদ্যোগটি গবাদি পশুকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সেই প্রকল্পকে আরও সম্প্রসারিত করেছে।
উল্লেখ্য পোজনানের ১৮.৩-মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ ও পরিচালনা করছে বার্লিন-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কোয়ান্টা এনার্জি’। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনগুলিতে এই কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে কারখানাটির বিদ্যুতের সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় এবং কারখানার সারা বছরের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ জোগান দেয় কেন্দ্রটি।
ফোক্সভাগেন পোজনানের ডিরেক্টর মারজেনা পিলিচ-গ্রনস্কা বলেন, “আজ এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কেবল পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎই সরবরাহ করছে না, বরং এটি জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় কৃষি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যে, আধুনিক শিল্পব্যবস্থা সহায়তাকারী একটি স্থানেও পরিণত হয়েছে। ভেড়া চড়ানোর এই প্রকল্পটি প্রমাণ করে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে কাজ করতে পারে।”
জানা গেছে, অভিজ্ঞ পালকদের তত্ত্বাবধানে শরৎকাল পর্যন্ত ভেড়াগুলি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রেই থাকবে। যান্ত্রিক উপায়ে ঘাস কাটার প্রয়োজনীয়তা দূর করার ফলে ভেড়া চড়ানোর এই পদ্ধতির মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং ক্ষতিকর পদার্থের নিঃসরণ কমবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি এটি কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলবে বলে দাবি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে ব্যাপক হইচই ফেলেছে ফোক্সভাগেনের এই পদক্ষেপ।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
আরটিভি/এসএস



