মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০৭:২৭ পিএম
একটি পোষা কুকুরের বিশ্বস্ততার হৃদয়স্পর্শী ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মালিকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরুর কিছুক্ষণ পরই তার ১৫ বছর বয়সী পোষা কুকুর ‘দুগ্গু’র মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলায়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬৭ বছর বয়সী প্রদীপ জৈন ভোপালের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এআইআইএমএস) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রোববার সন্ধ্যায় তার মরদেহ বেতুলের বাড়িতে আনা হলে পোষা কুকুর দুগ্গু তাকে ছেড়ে যেতে চায়নি।
পরিবার জানায়, মালিকের মরদেহ বাড়িতে আসার পর থেকেই দুগ্গু অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। স্বজনরা মরদেহ অন্য একটি কক্ষে রাখলেও কুকুরটি সারারাত অস্থির ছিল। বারবার ঘেউ ঘেউ করে এবং মালিকের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে।
শেষবারের মতো পাশে বসেছিল দুগ্গু
সোমবার সকালে প্রদীপ জৈনের শেষকৃত্যের আগে পরিবারের সদস্যরা দুগ্গুকে তার প্রিয় মালিকের পাশে শেষবারের মতো বসার সুযোগ দেন।
পরিবারের সদস্যদের মতে, কুকুরটি কয়েক মিনিট নীরবে মালিকের পাশে বসে থাকে। এরপর তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিন্তু শেষযাত্রা শুরু হওয়ার পর দুগ্গু আবারও মালিকের মরদেহ বহনের খাটিয়ার পাশে হাঁটতে থাকে। কিছু দূর যাওয়ার পরই সে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং মারা যায়।
পরিবারের ধারণা, ১৫ বছরের দীর্ঘ সঙ্গীর বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারেনি কুকুরটি।
একই দিনে শেষ বিদায়
প্রদীপ জৈনের শেষকৃত্য হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বেতুলের গঞ্জ মোক্ষধামে সম্পন্ন করা হয়। অন্যদিকে, দুগ্গুকেও কাছেই পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে সমাহিত করা হয়।
প্রদীপ জৈনের ছোট ভাই দিলীপ জৈন জানান, দুগ্গু ছোটবেলা থেকেই তাদের পরিবারের সঙ্গে ছিল। বিশেষ করে প্রদীপ জৈনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর।
তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রদীপ জৈন বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকত দুগ্গু। প্রায়ই তার সঙ্গে খাবার খেত এবং মালিক অসুস্থ হলে নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়ত।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুগ্গু শুধু একটি পোষা প্রাণী ছিল না, সে ছিল পরিবারের একজন সদস্য। দীর্ঘ ১৫ বছরের বিশ্বস্ত সঙ্গের পর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মালিকের পাশে থেকে সে যে বিদায় নিয়েছে, তা উপস্থিত অনেক মানুষকে চোখের পানি ফেলতে বাধ্য করেছে।
আরটিভি/ এসকেডি