মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০১ পিএম
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা চার বছরের অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হুথিদের অভিযোগ, সোমবার (১৩ জুলাই) তাদের নিয়ন্ত্রিত সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাব হিসেবেই তারা এই হামলা চালায়।
যদিও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণাঞ্চলের দিকে আসার সময় আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ২০২২ সালের মার্চে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এটিই হুথিদের প্রথম প্রকাশ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি।
এই হামলার ফলে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অতীতে হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজেও হামলা চালিয়েছিল।
এর আগে সোমবার হুথিরা অভিযোগ করে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। তারা এ ঘটনাকে স্পষ্ট আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে পাল্টা জবাবের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে, সানার বিমানবন্দরের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করারও আহ্বান জানায়।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, সানার রানওয়েতে হামলার উদ্দেশ্য ছিল একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দেওয়া। সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, বিমানটি ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে অবতরণের চেষ্টা করছিল। পরে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, বিমানটি শেষ পর্যন্ত হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।
২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু হয়, যা বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। যদিও ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত ছিল, সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই শান্তি ভেঙে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরটিভি/এসএস