images

আন্তর্জাতিক

ভারতে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে চার্চে হামলা, ভাঙচুর

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ১২:৪৪ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুভাস গ্রামের একটি নির্মাণাধীন চার্চে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দাবি, একদল ব্যক্তি ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে চার্চে প্রবেশ করে ক্রস, দরজা ও পিলার ভাঙচুর করে এবং খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৫ জুলাই দুপুরে বুড়িবরতলা এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা চার্চের ওপর স্থাপিত তিনটি ক্রস ভেঙে ফেলে এবং নির্মাণাধীন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শিউলি ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা খ্রিস্টান পরিবারগুলোর নাম ও ফোন নম্বরের তালিকা দাবি করে। পাশাপাশি পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। তাদের দাবি ছিল, হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় চার্চ নির্মাণ করা যাবে না। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তরের অভিযোগও তোলা হয়।

আরেক বাসিন্দা বর্ণালি ভূঁইয়া বলেন, হামলাকারীরা দাবি করে শাখা-সিঁদুর পরার অধিকার শুধু হিন্দু নারীদের। তিনি বলেন, “আমরা যদি অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তরিত হতাম, তাহলে আজও ঝুপড়ি ঘরে থাকতে হতো না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা চার্চের ক্রস ভেঙে ফেললেও তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’-এর কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক তাপস বারিক বলেন, তাদের কোনো সদস্য ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে তিনি জোরপূর্বক বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তরের বিরোধিতা করেন।

অন্যদিকে, খ্রিস্টান সংগঠনগুলো ধর্মান্তরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, সম্পত্তি নষ্ট, অনধিকার প্রবেশ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনজনকে আটক করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

আরও পড়ুন
india-asam

রাস্তার ধারে প্রস্রাব করলেই দেখা যাবে বড় পর্দায়, ঘটনা কী

এদিকে খ্রিস্টান কল্যাণ সংস্থা বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিষেবা দাবি করেছে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হেরোদ মল্লিক জানান, গত দুই সপ্তাহে পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমানসহ বিভিন্ন এলাকায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত চারটি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বেড়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

আরটিভি/এসকে