বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০২:৩৫ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়ণের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে বিশ্বের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র। বৈশ্বিক উষ্ণতার সুযোগ নিয়ে এশিয়া থেকে ইউরোপে দ্রুত বিস্তার ঘটাচ্ছে বিশাল আকৃতির শিকারি প্রেয়িং ম্যানটিস (ঘাস ফড়িং সদৃশ শিকারি পতঙ্গ)। বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা, দ্রুত বংশবিস্তারকারী এই আক্রমণাত্মক পতঙ্গ ইউরোপের স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্রমেই বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি জার্নাল অব অর্থোপ্টেরা রিসার্চ-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ইতালির জি জান্নাতো মিউজিয়াম অব আর্কিওলজি অ্যান্ড ন্যাচারাল সায়েন্সেসের একদল গবেষক।
গবেষকদের ভাষ্য, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং শহরাঞ্চলের কৃত্রিম উষ্ণ পরিবেশ এই শিকারি পতঙ্গগুলোর বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। ফলে তারা দ্রুত উত্তর ইউরোপের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। একসময় যেসব অঞ্চল অতিরিক্ত ঠান্ডা হওয়ার কারণে এসব পতঙ্গের টিকে থাকা সম্ভব ছিল না, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন সেই এলাকাগুলোও তাদের বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠছে।
বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যেই প্রেয়িং ম্যানটিসকে ইউরোপের স্থানীয় বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকিস্বরূপ প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কারণ, এরা অত্যন্ত আগ্রাসী শিকারি। মধু উৎপাদনকারী মৌমাছির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরাগায়নকারী কীটপতঙ্গ, ব্যাঙ, টিকটিকিসহ ছোট প্রাণী এমনকি ইউরোপের স্থানীয় ম্যানটিস প্রজাতিকেও শিকার করছে। এতে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
গবেষক রবার্তো বাতিস্তোন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব পতঙ্গের বিস্তার ক্রমাগত উত্তরমুখী হচ্ছে। বর্তমানে পার্ক, বাগানসহ বিভিন্ন সবুজ এলাকায় নিয়মিত তাদের দেখা মিলছে। তবে আকারে বড়, রঙিন ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় অনেক মানুষ এগুলোকে ক্ষতিকর প্রাণী হিসেবে না দেখে বরং বাগানের আকর্ষণীয় একটি পোকা বলে মনে করেন। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং এই আক্রমণাত্মক প্রজাতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতেই গবেষণাটি করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রেয়িং ম্যানটিস খুব সহজেই নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং দ্রুত বংশবিস্তার করে। একটি স্ত্রী ম্যানটিস একবারে প্রায় ২০০টি বাচ্চা জন্ম দিতে সক্ষম, যা ইউরোপের স্থানীয় ম্যানটিস প্রজাতির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে এদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্থানীয় বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্রমেই বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরটিভি/এমএইচজে