images

আন্তর্জাতিক / ভারত / যুক্তরাষ্ট্র

ভারতসহ পাঁচ দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৪৪ পিএম

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন একটি বিল আনার বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। এই প্রস্তাবিত বিলে ভারত ও চীনসহ পাঁচটি দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।

বুধবার(১৫ জুলাই ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সিনেট সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই বিলটির বিষয়ে মঙ্গলবার(১৪ জুলাই) বিস্তারিত কথা বলেছেন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। তিনি জানান, রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী প্রধান কয়েকটি দেশের ওপর সুনির্দিষ্ট আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে এই বিলে। এই শুল্কের হার সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা বা ছাড়ের সুযোগও বিলে রাখা হয়েছে।

নতুন এই বিলের মূল লক্ষ্য কেবল রাশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশগুলোই নয়। যারা ক্রেমলিনের কাছ থেকে নিয়মিত প্রাকৃতিক গ্যাসও আমদানি করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই বিলের তালিকায় থাকা প্রধান পাঁচটি দেশ হলো ভারত, চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান।

এর আগে গত বছর রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই সংক্রান্ত একটি বিল সিনেটে উত্থাপন করেছিলেন। সে সময় রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে নানাবিধ আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় সেই বিলটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হতে পারেনি। বর্তমানের নতুন এই প্রস্তাবটিকে ওই পুরোনো বিলের একটি পরিমার্জিত ও সংশোধিত সংস্করণ হিসেবে দেখছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

মার্কিন সিনেটের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে নতুন সংশোধিত এই বিলটির পক্ষে ইতিমধ্যে ২৬ জন সিনেটর তাদের সরাসরি সমর্থন জানিয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে এই বিলে সমর্থনকারী সিনেটরদের সংখ্যা আরও অনেক বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি পাস হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন
3

ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

অবশ্য শুল্কনীতি নিয়ে মার্কিন অভ্যন্তরীণ আদালতেই এর আগে বেশ বড় ধাক্কা খেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত এক রায়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ আইন প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বাড়তি আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিলেন, তা সম্পূর্ণ বেআইনি ছিল।

আদালতের সেই রায়ের পর সাময়িকভাবে ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের বিকল্প ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সম্প্রতি তার সেই শুল্কনীতিও মার্কিন আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আদালতের এমন বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেই এবার আইনপ্রণেতারা নতুন করে ভারত ও চীনের মতো বন্ধু ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর আইনি পথ খুঁজছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভারত ও চীন রাশিয়া থেকে সস্তায় বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস কিনে আসছে। নয়াদিল্লি বরাবরই দাবি করে আসছে যে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ের স্বার্থেই এই আমদানি সচল রাখা দরকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন বিলটি পাস হলে ভারতের মতো বন্ধু ভাবাপন্ন দেশগুলো ওয়াশিংটনের তরফ থেকে এক নজিরবিহীন বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক চাপের মুখোমুখি হবে।

আরটিভি/এআর