ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৫৩ পিএম


ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে কড়া হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে দেশটির সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে সব গুরুত্বপূর্ণ সেতু। 

বুধবার (১৫ জুলাই) এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই হুমকি দেন রিপাবলিকান নেতা। 

ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে উপকূল ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় থাকা সবকিছু লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নিজে থামতে না বলব, ততক্ষণ এই আক্রমণ চলবে।

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিষয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে তিনি একেবারে শেষের জন্য রেখে দিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি না বদলালে শেষ পর্যন্ত সেগুলোতেও আক্রমণ চালানো হবে। 

তিনি আরও বলেন, আজ রাতেও মার্কিন বাহিনী কঠোর হামলা চালাবেন। আগামী রাতেও এই হামলা অব্যাহত থাকবে। তার পরের রাতেও আকাশ থেকে বোমা ফেলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি ইরানের জন্য আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কারণ তখন ইরানের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। এরপর সেতুগুলো লক্ষ্য করে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে। তারা ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ অচল করে দেবেন। সব সেতু পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবেন। যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে, তবে এটাই হবে চূড়ান্ত পরিণতি। 

আরও পড়ুন

ট্রাম্পের দাবি, নতুন একটি চুক্তি করা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। তিনি জানান, সাক্ষাৎকার দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগেও মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানিরা আসলে চুক্তি করতে চায়। আর তাদের জন্য চুক্তি করাই এখন সবচেয়ে ভালো বিকল্প। নইলে তাদের দেশে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সবকিছু মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে চায় বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, আগে সেখানে তিনি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে একটি ফি আরোপের কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চাইছে। এই বিনিয়োগের বিষয়টি তার কাছে আরও বেশি ভালো মনে হয়েছে। তাই তিনি ফি আরোপের ধারণাটি আপাতত বাতিল করেছেন। হরমুজ প্রণালি অবশ্যই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। তা না হলে বিশ্বের অন্য দেশগুলোও একই ধরনের অবরোধ শুরু করবে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর।

ট্রাম্প আরও বলেন, এই লোকগুলোর সঙ্গে আলোচনার একমাত্র উপায় হলো শক্তি প্রদর্শন করা। আর সেই শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা। মার্কিন বাহিনী সেটাই করে দেখিয়েছে। তিনি দাবি করেন, মাত্র দুই দিন আগে তাদের মধ্যে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরানিরা সেই চুক্তি ভেঙে দিয়েছে, যা চরম হতাশাজনক।এ

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড একটি বিস্তারিত বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা একেবারে দুর্বল করে দেওয়া হবে। এই লক্ষ্য নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরু করেছে। 

পরে সেন্টকম আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে। এরই অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর বিপুলসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিপুল সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি। বর্তমানে অঞ্চলটিতে তাদের ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে শত শত সামরিক উড়োজাহাজও। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এই বিপুল সামরিক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission