সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ , ০২:০২ পিএম
Failed to load the video
হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই সাধারণত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম বড় কূটনৈতিক লক্ষ্য। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পরই ভিন্ন এক বার্তা দিলেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি জানান, দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতা করতেও পিছপা হবেন না। তাহলে দুই মিত্র দেশের সম্পর্কে কি তবে তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ?
দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় সাক্ষাৎকারেই বার্নহ্যাম স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দেশের স্বার্থের প্রশ্নে তিনি কোনো আপস করবেন না। প্রয়োজনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি বা সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।
বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠক ছিল ইতিবাচক। তার কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আন্তরিক বলেই মনে হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের ওপর তিনি ভরসা করেন কি না, এমন প্রশ্ন দুবার করা হলেও সরাসরি উত্তর দেননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই প্রতিটি পরিস্থিতি সামনে এলে তখনকার বাস্তবতা বিবেচনা করেই নিতে হবে সিদ্ধান্ত। সাক্ষাৎকারে ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের নীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। বার্নহ্যাম জানান, ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতমুখী অবস্থান তার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নিজের কাছে যা সঠিক মনে হবে, তা বলতে তিনি কখনো দ্বিধা করবেন না। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁর উত্তর ছিল এক কথায়, 'অবশ্যই।'
বার্নহ্যাম বলেন, যেকোনো কিছুর আগে একজন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন হলে সেটিই করবেন। নিজের রাজনৈতিক দর্শনের কথাও তুলে ধরেন নতুন এই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও বদলাবে না সেই অভ্যাস।
প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বার্নহ্যাম। জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি তিনি। তার মতে, প্রথমে প্রয়োজন অর্থের জোগান নিশ্চিত করা। এরপরই বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
এদিকে ২০২৯ সালের আগে আগাম নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। বার্নহ্যামের মতে, এই মুহূর্তে দেশের মানুষ আরেকটি নির্বাচন চায় না। বরং সরকারের উচিত দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনাকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দিকে মনোযোগ দেওয়া।
আরটিভি/এআর