images

আন্তর্জাতিক

আদালতে জ্ঞান হারালেন উগান্ডার বিরোধী নেতা

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৭:০২ পিএম

উগান্ডার বিরোধীদলীয় নেতা কিজা বেসিগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানির সময় আদালতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন।

৭০ বছর বয়সী বেসিগে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে, তবে তিনি তা অস্বীকার করেছেন। গত মাসে তার প্রধান আইনজীবীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের শুনানির সময় বেসিগে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে নিজের মামলা পরিচালনার বিরোধিতা করেন।

এ সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে কারারক্ষীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

তার স্ত্রী জানান, বেসিগে কিছু সময় অচেতন ছিলেন। তিনি কথা বলতে পারছিলেন না এবং ব্যথার প্রতিক্রিয়াও দিচ্ছিলেন না।

কিজা বেসিগে দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি চারবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুসেভেনির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০২৪ সালে তাকে কেনিয়া থেকে আটক করে উগান্ডায় ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর থেকে তিনি ও তার সহযোগী ওবেইদ লুতালে কারাগারে রয়েছেন।

সরকারের অভিযোগ, তারা প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছিলেন।

তবে বেসিগে ও লুতালে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উগান্ডায় রাষ্ট্রদ্রোহের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

স্ট্র চেটে ভেন্ডিং মেশিনে ফেরত, ফরাসি শিক্ষার্থীকে জরিমানা

বেসিগের স্ত্রী জানান, শুরুতে তাকে চিকিৎসা করার অনুমতি পাননি। পরে হাসপাতালে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়।

প্রথমে বেসিগেকে সরকারি মুলাগো ন্যাশনাল রেফারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং সেখানে সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে বেসিগের প্রধান আইনজীবী এরিয়াস লুকওয়াগো গত মাসে সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আরেক আইনজীবী, কেনিয়ার রাজনীতিবিদ মার্থা কারুয়াকে বেসিগের আইনি সহায়তার জন্য উগান্ডায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়।

অসুস্থতার কারণে বেসিগেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার, বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বুধবার (২৯ জুলাই) তার ছেলে অ্যাডাম আম্পা প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি ও সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবার কাছে মানবিক কারণে বাবাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানান।

আটকের পর এর আগেও কয়েকবার বেসিগেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আটক অবস্থায় অনশন করার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চলতি বছরের শুরুতেও তাকে অল্প সময়ের জন্য চিকিৎসা নিতে হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা ববি ওয়াইন বলেছেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বেসিগেকে আদালতে হাজির করা তার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। কিজা বেসিগে একসময় প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন। তবে ১৯৯৯ সালে তাদের সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি তুলনামূলক কম সক্রিয় ছিলেন এবং ২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেননি। সূত্র: রয়টার্স

আরটিভি/এমএইচজে