শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ , ০২:২৯ পিএম
ভারতে মেডিকেল প্রশ্নপত্র ফাঁসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, আন্দোলন দমনে পুলিশের অভিযান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই পরিচালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভারতে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিজিৎ দিপকে বলেন, ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে যেভাবে পুলিশ হামলা চালিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরেছে, তা অমিত শাহর নির্দেশ ছাড়া সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, আমিও মনে করি, অমিত শাহর পদত্যাগ করা উচিত।
এর আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও একই অভিযোগ তুলে অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। অভিজিৎ জানান, তিনি রাহুল গান্ধীর ওই দাবির সঙ্গে একমত।
বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগও নাকচ করেন অভিজিৎ। তিনি বলেন, যদি সত্যিই তার সংগঠন বিদেশ থেকে অর্থ পেয়ে থাকে, তাহলে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সেটিও অমিত শাহর ব্যর্থতা। সে ক্ষেত্রেও তার পদত্যাগ করা উচিত।
অভিজিৎ আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর অজুহাত তৈরি করতে পুলিশই পরিকল্পিতভাবে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়েছে। তার দাবি, ২০ জুলাই যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে একটি ট্রাকে করে পাথর এবং একটি ভাঙা গাড়ি এনে সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শিক্ষার্থীদের ওপর অভিযান চালানো হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে এবং তার পরিবারকে শাসক দলের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। তার ভাষ্য, দলটিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়। তবে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো প্রস্তাব বা চাপেই তিনি ওই দলে যোগ দেবেন না।
অভিজিতের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসক দল। দলটির নেতা কেশব উপাধ্যে বলেন, তিনি যদি রাহুল গান্ধীর অবস্থান অনুসরণ করতে চান, তাহলে কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতেই সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আইন করেছে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও গ্রহণ করেছে। তাই এখন রাজনীতি না করে সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত।
অন্যদিকে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে বলেন, অভিজিৎ যদি হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় দিতে পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচয় দিতে না পারলে ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ভারতে মেডিকেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের (নীট) অভিযোগে দীর্ঘদিনের শিক্ষার্থী আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই আন্দোলন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া
আরটিভি/জেএমএ