মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৪:১৭ পিএম
তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচতে নাগরিকদের কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দেশটির শাসক ওয়ার্কার্স পার্টির মুখপত্র ‘রোডং সিনমুন’ এক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে গরম থেকে সুস্থ থাকার উপায় হিসেবে এই বিশেষ খাবারের সুপারিশ করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) হংকং ভিত্তিক গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিয়ংইয়ং জেনারেল হাসপাতালের এক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের সাক্ষাৎকার নিয়ে নিবন্ধটি তৈরি করা হয়। এতে বলা হয়, তীব্র গরমে তাপজনিত অবসাদ (হিট এক্সহস্টশন) ও হিটস্ট্রোকের কারণে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং হাইপারথাইরয়েডিজমের মতো রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে তরমুজ, মুগ ডাল ও শসার মতো খাবারের পাশাপাশি কুকুরের মাংসের স্যুপ, মাছের পায়েস এবং লাল শিমের পায়েসের মতো উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার খাওয়া জরুরি।
উত্তর কোরিয়ায় কুকুরের মাংসের স্যুপ স্থানীয়ভাবে ‘ডানগোগি গুক’ বা ‘মিষ্টি মাংসের স্যুপ’ নামে পরিচিত। বহু বছর ধরেই দেশটির সরকার এটিকে গ্রীষ্মকালের ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে প্রচার করে আসছে। এমনকি রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে কুকুরের মাংসের বিশেষায়িত রেস্তোরাঁ রয়েছে এবং এই খাবারকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর রন্ধন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।
উত্তর কোরিয়ার সাবেক কূটনীতিক রি চোল সংবাদমাধ্যম ‘দিস উইক ইন এশিয়া’কে জানান, ডানগোগি অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও তা সাধারণ মানুষের জন্য বেশ ব্যয়বহুল। সাধারণত প্রচণ্ড গরমের দিনে ক্লান্তি দূর করার পথ্য হিসেবে দেশটির নাগরিকেরা এটি খেয়ে থাকেন।
গত ২৭ জুলাই থেকে উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে একটানা উষ্ণ রাত ও তীব্র দাহদাহ। দেশের আবহাওয়া দপ্তর ইতোমধ্যে মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। অনেক স্থানে তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে এবং তা ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহ চললেও তারা হেঁটেছে সম্পূর্ণ বিপরীত পথে। ২০২৪ সালে এক ঐতিহাসিক আইন পাসের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া কুকুর পালন, জবাই এবং মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তিন বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আইনটি কার্যকর হলে অপরাধীদের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৩ কোটি ওন জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
আরটিভি/এআর