বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০৫:০২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনে ঐতিহাসিক এক জয় পেয়েছেন প্রগতিশীল পপুলিস্ট নেতা আব্দুল এল-সায়েদ। দলটির প্রথাগত ধারা ও ইসরায়েলপন্থী লবিং গ্রুপ ‘আইপ্যাক’ (AIPAC)-এর সমর্থনপুষ্ট শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রিপ্রেজেন্টেটিভ হ্যালি স্টিভেন্সকে হারিয়ে সিনেট নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন ৪১ বছর বয়সী এই সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশের বেশি কেন্দ্রের ভোট গণনার পর এল-সায়েদ ৪৮.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্টিভেন্স পান ৪৭.৫ শতাংশ ভোট।
মিশরীয় অভিবাসী দম্পতির সন্তান আব্দুল এল-সায়েদ পেশায় একজন সম্মানীয় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। রোর্ডস স্কলার হিসেবে অক্সফোর্ডে পড়াশোনার পর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করে ডিনারের বয়সে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলধারার রাজনীতিকদের কাছে হেরে যান। তবে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ নীতিতে অটল থেকে আবারও জোরালোভাবে উঠে এলেন তিনি।
আগামী নভেম্বরের মূল নির্বাচনে অবসর নেওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। সাধারণ নির্বাচনে জয় পেলে এল-সায়েদ হবেন মার্কিন সিনেটের দুই শতকের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর।
এল-সায়েদের এই রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে গাজায় সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান। গাজার ধ্বংসযজ্ঞকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের করের টাকা বিদেশে যুদ্ধ বা বোমার পেছনে না ঢেলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় বিনিয়োগের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন এই প্রগতিশীল নেতা।
শুধু বৈদেশিক নীতিই নয়, তিনি মার্কিন রাজনীতি থেকে করপোরেট অর্থের প্রভাব হঠানো, সবার জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার ফর অল) চালু করা এবং কঠোর মার্কিন অভিবাসন সংস্থা ‘আইস’ (ICE) পুনর্গঠনের মতো প্রগতিশীল ইশতেহার নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগানের মতো একটি সুইং স্টেটে—যেখানে ২০১৬ এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন—সেখানে একজন প্রগতিশীল মুসলিম প্রার্থীর জয় পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে এল-সায়েদ মনে করেন, সাধারণ আমেরিকানরা এখন করপোরেট-বান্ধব রাজনীতিকদের চেয়ে জনঘনিষ্ঠ এবং সাহসী নেতাদেরই বেশি পছন্দ করেন। নভেম্বরের মূল নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সিনেট ধরে রাখার লড়াইয়ে এল-সায়েদ জয়ী হতে পারেন কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো আমেরিকা।
আরটিভি/এমএম