চৌর্যবৃত্তির বিতর্কে পদত্যাগ করলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০৪:৩৭ পিএম


চৌর্যবৃত্তির বিতর্কে পদত্যাগ করলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
জেসন আর্ডে : ছবি সংগৃহীত

চৌর্যবৃত্তির বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন ইংল্যান্ডের বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আর্ডে। মর্যাদাপূর্ণ এই ব্রিটিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। 

জেসন আর্ডে নামের ওই অধ্যাপক জানিয়েছেন, এ অধ্যায়ের সমাপ্তি টানার একমাত্র উপায় হলো তার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া। লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

তবে আর্ডে এবং তার সমর্থকরা দাবি করেছেন, এই চুলচেরা বিশ্লেষণের পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য রয়েছে।

অনলাইনে পোস্ট করা এক চিঠিতে আর্ডে উল্লেখ করেন, এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় ছিল পদত্যাগ করা। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার এই সিদ্ধান্তকে যেন তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অপবাদের স্বীকৃতি হিসেবে ভুল করা না হয়।

আরও পড়ুন

তিনি লেখেন, এটি এমন একজন মানুষের সিদ্ধান্ত, যিনি এতটাই কষ্ট সহ্য করেছেন যে, এর বেশি সহ্য করা কোনো মানুষের কাছ থেকে আর প্রত্যাশা করা যায় না।

আর্ডে জানান, তিনি কেমব্রিজের ‘সোসিওলজি অব এডুকেশন’-এর অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জেসাস কলেজের ফেলো পদ থেকে পদত্যাগ করছেন।

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করে, তারা অধ্যাপক আর্ডের একাডেমিক যোগ্যতা এবং সম্মানসূচক নিয়োগের বিষয়ে নতুন কিছু তথ্যের ভিত্তিতে একটি তদন্ত শুরু করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও জানায়, এর বাইরেও একাডেমিক অসদাচরণ নিয়ে বেশ কিছু চলমান অভিযোগ রয়েছে, যা আমাদের গবেষণা নীতি অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক এবং নিজেকে ‘রেস রিয়ালিস্ট’ হিসেবে দাবি করা নাথান কফনাস অভিযোগ করেছেন, আর্ডের পিএইচডি থিসিসের একাধিক অংশ অন্যান্য কাজ থেকে হুবহু নকল করা হয়েছে।

বর্ণবাদের অভিযোগে ২০২৪ সালে কেমব্রিজের সাথে কফনাসের গবেষণামূলক সম্পৃক্ততার অবসান ঘটেছিল। আর্ডের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে করা কিছু দাবিও এখন বিতর্কের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিনি একসময় ৩৫ দিনে ৩০টি ম্যারাথন দৌড়েছিলেন এবং দাতব্য সংস্থার জন্য লাখ লাখ টাকা তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন।ৎ

আরও পড়ুন

গত শনিবার ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্ডে স্বীকার করেছেন, একাডেমিক ক্ষেত্রে কিছু ‘ভুল’ হয়েছিল। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তাকে ভুলভাবে একজন মিথ্যাবাদী, কাল্পনিক চরিত্র ও একাডেমিক প্রতারক হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে তার পদ থেকে সরানোর এই প্রচারণা আসলে ‘বর্ণবাদ দ্বারা অনুপ্রাণিত’।

অটিজমে আক্রান্ত আর্ডে জানান, ৩৭ বছর বয়সে কেমব্রিজের অধ্যাপক হওয়ার আগে ১১ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি কথা বলতে পারতেন না এবং ১৮ বছর বয়সে এসে পড়তে ও লিখতে শেখেন। 

বিবৃতিতে তিনি বলেন, এটাই আমার কাজের শেষ নয়। এখন আমার ‘সুস্থ হয়ে ওঠার এবং নিজের মাঝে ফিরে আসার জন্য সময় প্রয়োজন।

আর্ডে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমি আবারও ফিরে আসব।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission