images

আন্তর্জাতিক

ভিডিও কলে বাবার শেষকৃত্য, মেয়ের প্রশ্ন আর কতক্ষণ লাগবে খেতে হবে

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০৯:৪৭ পিএম

তিন মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করতেই কেটে গেছে জীবনের বড় একটি অংশ। কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে সেই বাবার পাশে ছিলেন না কোনো মেয়েই। মৃত্যুর পরও বাবার শেষকৃত্যে সশরীরে উপস্থিত হননি তারা। বরং ভিডিও কলে শেষকৃত্যের পুরো প্রক্রিয়া দেখেছেন তিন বোন। এমনকি শেষকৃত্য চলাকালে এক মেয়েকে বলতে শোনা যায়, আর কতক্ষণ লাগবে আমাদের তো এবার খেতে এবং স্নান করতে যেতে হবে।

ঘটনাটি ভারতের সোনিপত-এর একটি বৃদ্ধাশ্রমের। শিবচরণ রাম রতন গুপ্ত নামে এক অবসরপ্রাপ্ত কাপড় ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মুম্বাইয়ের বাসিন্দা শিবচরণ রাম রতন গুপ্ত স্ত্রীর মৃত্যুর পর গত দুই বছর ধরে সোনিপতের ওই বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করছিলেন। মৃত্যুর খবর জানানো হলেও দূরত্বের কারণ দেখিয়ে তার তিন মেয়ে কেউই সোনিপতে আসতে পারেননি। পরে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

বৃদ্ধাশ্রমের প্রশাসক আনন্দ কুমার জানান, শিবচরণবাবু তিন মেয়েকেই উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার দুই মেয়ে শিক্ষকতা পেশায় রয়েছেন এবং আরেকজনও প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে বড় মেয়ে অনিতা নেপালে, মেজো মেয়ে নিশা উত্তর প্রদেশের আজমগড়ে এবং ছোট মেয়ে প্রিয়া মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অবস্থায় শিবচরণবাবু নিয়মিত মেয়েদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। তবে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে মেয়েদের যোগাযোগ অনেকটাই কমে যায়। মৃত্যুর প্রায় ২০ দিন আগে তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতির খবর জানানো হলেও কেউ তাকে দেখতে আসেননি।

শেষ পর্যন্ত ভিডিও কলে শেষকৃত্যের পুরো প্রক্রিয়া দেখেন তিন মেয়ে। এ সময় নেপালে থাকা বড় মেয়ে অনিতা অনলাইনে ৫ হাজার ১০০ রুপি পাঠান শেষকৃত্যের খরচ হিসেবে। পরে তিন মেয়েই বাবার চিতাভস্ম সংরক্ষণ করে রাখার অনুরোধ জানালেও, পরে সোনিপতে আসার সময় হবে না জানিয়ে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকেই গঙ্গায় সেই চিতাভস্ম বিসর্জনের দায়িত্ব দেন।

আরও পড়ুন
mike-india

পশ্চিমবঙ্গে আজান বন্ধে খুলে নেওয়া হচ্ছে মসজিদের মাইক

এদিকে, শেষকৃত্য চলাকালে ভিডিও ফুটেজ পাঠানোর অনুরোধের পাশাপাশি এক মেয়ের ফোনালাপের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, আর কতক্ষণ লাগবে? আমাদের তো এবার খেতে এবং স্নান করতে যেতে হবে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
 
আরটিভি/এসকে