ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে আজান বন্ধে খুলে নেওয়া হচ্ছে মসজিদের মাইক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মসজিদের মাইক খুলে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপব্যাখ্যা করে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে রাজ্য প্রশাসনের দাবি, ধর্ম নয়, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের অভিযোগ, পর্যায়ক্রমে মসজিদে কিংবা প্রকাশ্যে আজান দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, শব্দদূষণের অজুহাতে বিভিন্ন এলাকায় মসজিদের মাইক খুলে ফেলতে বাধ্য করা হচ্ছে।

রাজ্যের বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় দিনের বেলায় সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে শব্দের মাত্রা রাখতে হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে এই বিধি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

এদিকে বিজেপির কয়েকজন নেতা শব্দ নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ঘরের মধ্যেই পালন করা উচিত এবং মাইক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অপরদিকে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, অন্যের অসুবিধা এড়িয়ে সবারই শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।

অন্যদিকে মুসলিম নেতা ও আইন বিশেষজ্ঞদের দাবি, কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোথাও মাইক সম্পূর্ণ বন্ধ বা খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে মাইক ব্যবহারের কথাই বলা হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক নজরুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে মাইক ব্যবহারে আপত্তি নেই। তবে লিখিত সরকারি নির্দেশ ছাড়া পুলিশ যদি জোরপূর্বক মাইক খুলতে আসে, তাহলে ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষণ করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, লিখিত নির্দেশনা ছাড়া পুলিশের এমন পদক্ষেপ সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। তিনি এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রকাশের দাবি জানান এবং কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, শব্দদূষণ মন্দির, মসজিদসহ সব ধর্মীয় স্থান থেকেই হতে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। একই ধরনের মত দেন সিপিএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চললে পুলিশ সরাসরি গিয়ে মাইক খুলে দিতে পারে না।

এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশন শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগী তিন সংখ্যালঘু এনসিপিআই এমপি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মসজিদের মাইক অপসারণের অভিযোগসংবলিত লিখিত আবেদন ও ভিডিও প্রমাণ জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সেনেগালের উন্নয়নে ২৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প নিয়ে হাজির সাদিও মানে
সেনেগালে ফুটবলের বাইরেও আলোচিত নাম সাদিও মানে। দেশের মানুষের প্রতি নিবেদন তাকে উচ্চ সম্মান প্রদান করেছেন। এবার আরও বড় চমক দেখালেন এই স্ট্রাইকার। সেনেগালের বাম্বালিতে ২৪৬ কোটি টাকার বিশাল কৃষি প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন এই তারকা ফুটবলার। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে সেনেগালের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএস । গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, মানের উদ্যোগে ‘এসএম১০ অ্যাগ্রো’ নামে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে ১১৭০ কোটি সিএফএ ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫০ কোটি টাকার সমান। গত ১৯ সেপ্টেম্বর নিজ গ্রাম বাম্বালিতে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেছেন সাদিও মানে। সেখানকার ৫০০ হেক্টর জমিতে গড়ে উঠবে আমের বাগান। লাগানো হবে প্রায় ৭৮ হাজার আমগাছ। এ ছাড়া থাকবে আম বাছাই, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা, কৃষি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং গবেষণা ও উন্নয়ন সুবিধা। প্রকল্পটি শুরুতে ১ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করবে; দীর্ঘ মেয়াদে এই সংখ্যা আড়াই হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। নিজের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নিয়ে মানে বলেছেন, আমি চাই আমাদের মাটির সম্পদ আমাদের কাছেই থাকুক। এই সম্পদ থেকে যে আয় হবে, তা সবার আগে আমাদের মানুষের উপকারে আসুক। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প শুধু সংখ্যার বিষয় নয়। আমি চাই আমাদের অঞ্চলের তরুণ ও নারীরা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাক। এ কারণেই প্রকল্পের সঙ্গে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র রাখা হয়েছে, যাতে আধুনিক কৃষিপদ্ধতি শেখানো যায়। এই প্রকল্প আপনাদের। আমি এটি আপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। নিজেদের প্রকল্প মনে করে এটিকে এগিয়ে নিন। আপনারাই এটি পরিচালনা করবেন। এর আগে বাম্বালিতে স্কুল, মসজিদ, হাসপাতাল ও পেট্রোল স্টেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক অবকাঠামোতে টাকা দিয়েছেন সাদিও মানে। এবার তার লক্ষ্য শুধু দান করা নয়, স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনা। আরটিভি/এসআর
সেনেগালের উন্নয়নে ২৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প নিয়ে হাজির সাদিও মানে
জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
কৃষি খাতের জরুরি প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে বিদেশি শ্রমিকদের ভিসা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সম্মত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বয়কট বাংলাদেশসহ ৭০ দেশের
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠার পরপরই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে ওয়াকআউট করে।
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বয়কট বাংলাদেশসহ ৭০ দেশের
ইতালির স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত
ইতালির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ এবং প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার একটি বিতর্কিত বিল অনুমোদন করেছে দেশটির মন্ত্রিসভা।
ইতালির স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত
পুলিশ পরিচয়ে কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ!
ভারতের দক্ষিণ দিল্লির আস্থা কুঞ্জ পার্কে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে ছুরি দেখিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্টে (এফআইআর)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এফআইআরের বরাতে জানা যায়, গত সোমবার জন্মদিনে বান্ধবীর সঙ্গে কালকাজি মন্দিরে পূজা দিতে গিয়েছিলেন ওই কিশোরী। কালকাজি মন্দির ঘুরে বিকাল পৌনে ছয়টা নাগাদ তারা পাশেই ইসকন মন্দিরে যাওয়ার আগে আস্থা কুঞ্জ পার্কের একটি বেঞ্চে বসেন।  রাত সাতটার দিকে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তিন ব্যক্তি হঠাৎ তার বন্ধুকে ধরে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করে। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে এলাকাটি ফাঁকা করতে বলে। কিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের একজন বন্ধুকে পার্কের অন্য কোনায় সরিয়ে নিয়ে যায়। একা পেয়ে কিশোরীটি আকুতি জানিয়ে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আসিফ নামের এক অভিযুক্তকে উদ্দেশ করে অন্য একজন বলে ওঠে, ‘আসিফ ভাই, বন্দুক বের করো।’ কিশোরী পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে জানায়, সে আমাকে একটি কালো রঙের বন্দুক দেখিয়ে আবার পকেটে রেখে দেয়। তারপর দুজনই ছুরি বের করে আমাকে একটি অন্ধকার জায়গায় নিয়ে যায়। পার্কের বেঞ্চে আসিফ তার গলায় ছুরি ধরে প্রথমে ধর্ষণ করে এবং হেমু নামের অপর অভিযুক্তকে পাহারা দিতে বলে। এরপর তাকে পর্যায়ক্রমে হেমন্ত ও মুকেশ নামের অন্য দুই অভিযুক্তও ধর্ষণ করে। অভিযুক্তদের আসল নাম আসিফ, হেমন্ত (হেমু) ও মুকেশ (দিপু)। তাদের মধ্যে হেমন্ত ও মুকেশ দুই ভাই। ধর্ষণের পর কিশোরী ও তার বন্ধুকে হত্যার হুমকি দিয়ে মোবাইল ফোন ফেরত দেয়। এরপর তাকে পার্ক থেকে বের করে দেয় তারা। পার্ক থেকে বের হয়ে বন্ধুকে পুরো ঘটনা জানালে সে জরুরি সেবা নম্বরে (পিসিআর) কল করে এবং পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। ঘটনার পর আসিফ ওখলা সবজি বাজারে গিয়ে নিজের মোবাইল বন্ধ করে বাইকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মঙ্গলবার এক বন্দুকযুদ্ধের পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  অন্যদিকে হেমন্ত ও মুকেশ প্রমাণ মেটাতে নিজেদের পোশাক ধুয়ে ফেলে এবং পরবর্তী সময়ে শ্রীনিবাসপুরীর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস করাতে ‘জনাব’-এর মতো পুলিশি শব্দ ব্যবহার করেছিল। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরটিভি/এসআর
পুলিশ পরিচয়ে কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ!
আরও পড়ুন
হঠাৎ ৩ লাখের বেশি ফেনসিডিলের বোতল গুঁড়িয়ে দিলেন শুভেন্দু, ঘটনা কী
পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে ২৫২ মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ
মিষ্টিতে পোকা পাওয়ার ভিডিও দেখিয়ে দোকানির কাছে আইফোন দাবি, অতঃপর...
হোস্টেল থেকে মেডিকেল ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার