images

এশিয়া

বেতন কম দেওয়ার প্রতিবাদে অফিসে ঘুমান তরুণী, ভিডিও ভাইরাল

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:২৪ পিএম

বর্তমান যুগে অফিসে নিজের মনের মত বেতন পান না এমন মানুষের সংখ্যা কম নেই। অনেকে তাই চাকরি পরিবর্তন করেন অথবা কেউবা নীরবে মেনে নেন। 

সম্প্রতি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে ওই তরুণীকে কাঁদতে কাঁদতে তার নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে দেখা যায়। অফিসে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করায় ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। খবর সাউথ চায়না মর্নিং। 

আরও পড়ুন
Kushtia_Pir014

কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ হত্যা: ২ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা

ঘটনাটি ঘটেছে মধ্য চীনের শাংচিউ শহরে। চীনা সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মী মনে করেন, তার পরিশ্রমের তুলনায় বেতন কম দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কাজের গতি কমিয়ে দেন। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে অফিস সময়েই তিনি নিজের ডেস্কে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, যেমন বেতন, তেমন কাজ করছি।  

ঘটনাটি তখন আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন তার বস তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে বকাঝকা করেন এবং এমন আচরণ আবার করলে চাকরি হারানোর হুঁশিয়ারি দেন। এর জবাবে ওই নারী একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে এবং তার এই পদক্ষেপ ছিল কম বেতনের বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা। তিনি আরও জানান, চাকরি ছাড়ার কোনও ইচ্ছা তার নেই, বরং বেতন কাঠামোর অসঙ্গতি নিয়ে তিনি বার্তা দিতে চেয়েছেন। 

তবে বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি। ঘুম থেকে উঠে তিনি তার বসের ডেস্ক থেকে একটি চকলেট খেয়ে নেন। পরে জানা যায়, তার বসের গ্লুকোজের সমস্যা রয়েছে এবং সেই চকলেটটি না পেয়ে তিনি প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

ভিডিওতে ওই নারী বলেন, তার বস ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ক্ষতি করতে চেয়েছেন। পাশাপাশি চাকরিচ্যুত করার হুমকিও দেন। এ নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কম বেতনে কাজ করা মানুষের বাস্তবতা সবাই বোঝেন না।

ঘটনাটি দ্রুত চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করেন, বেতন নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্বে অবহেলা করা এবং সহকর্মীর খাবার নেয়া পেশাগত সীমা লঙ্ঘনের শামিল।

যদিও কেউ কেউ চীনে শ্রম পরিবেশ ও বেতন বৈষম্যের বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে অধিকাংশই নিয়োগকর্তার পক্ষ নিয়েছেন এবং বলেছেন, এ ধরনের আচরণ কোনো কর্মস্থলেই গ্রহণযোগ্য নয়।  

আরটিভি/এমআই