images

আইন-বিচার

হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়লো

রোববার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৬:১৭ পিএম

ইনকিলাব মঞ্চের শহীদ মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আরও চার দিনের সময় দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা তা জমা দিতে না পারায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়ে দেন।

এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা ইতিমধ্যে তিন দফা পেছানো হয়েছে। আদালতের সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, সিআইডি আগামী ২৯ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। শুরুতে মামলাটির তদন্তে ডিবি যুক্ত থাকলেও পরে সিআইডিকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ এবং তার সহযোগীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে পরিকল্পিতভাবে হাদিকে হত্যা করেন।

ডিবি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করা ও ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করাও হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জন। এদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ পাঁচজন এখনো পলাতক।

আরও পড়ুন
Web-Image

নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্নে নিষেধাজ্ঞা

এ ছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার কয়েকজন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

পরদিন ১৯ ডিসেম্বর হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে হাদিকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওসমান হাদি মৃত্যুবরণ করলে যা হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া হয়।  

আরটিভি/এমএ