সোমবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০৯:১৯ এএম
চা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে ব্যস্ত জীবনে অফিস, বাসা কিংবা আড্ডায় টি-ব্যাগ দিয়ে চা তৈরি করা যেমন সহজ, তেমনি সময়ও বাঁচায়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানিয়েছে, এই সুবিধার আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘কেমোস্ফিয়ার’ এ প্রকাশিত বার্সেলোনার অটোনোমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত টি-ব্যাগ থেকে নির্গত মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিক মানব শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
গবেষকরা বাজারে সহজলভ্য কয়েকটি ব্র্যান্ডের টি-ব্যাগ পরীক্ষা করে দেখেন, এগুলো তৈরি ছিল নাইলন-৬, পলিপ্রোপিলিন এবং সেলুলোজ দিয়ে। চা বানানোর সময় এসব উপাদান থেকে কোটি কোটি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা নির্গত হয়।
পলিপ্রোপিলিন: প্রতি মিলিলিটার চায়ে প্রায় ১.২ বিলিয়ন কণা।
সেলুলোজ: ১৩৫ মিলিয়ন কণা।
নাইলন-৬: ৮.১৮ মিলিয়ন কণা।
এই কণাগুলো অন্ত্রের কোষ শোষণ করে রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে যেতে পারে। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, প্লাস্টিক কণা সরাসরি কোষের নিউক্লিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি
.কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত
.পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি
.জেনেটিক উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মিউটেশনের ঝুঁকি
.প্রদাহজনিত সমস্যা
.দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি
.বাংলাদেশে প্রভাব
বাংলাদেশে দ্রুত বাড়ছে টি-ব্যাগের ব্যবহার। ব্যস্ত জীবনে সহজ সমাধান হিসেবে অনেকেই এটি বেছে নিচ্ছেন। তবে গবেষণার তথ্য বলছে, দেশে বিক্রি হওয়া টি-ব্যাগগুলোতেও একই ধরনের ঝুঁকি থাকতে পারে।
ঝুঁকি এড়ানোর উপায়
.টি-ব্যাগের পরিবর্তে খোলা পাতা চা ব্যবহার
.ধাতব বা কাপড়ের প্রাকৃতিক ছাঁকনি দিয়ে চা তৈরি
.পরিবেশবান্ধব উপাদান দিয়ে তৈরি ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া
.টি-ব্যাগ ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি
গবেষকরা বলছেন, মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। এ ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে নীতিমালা তৈরি হলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। চা আমাদের সংস্কৃতির অংশ হলেও এর নিরাপদ উপভোগ নিশ্চিত করতে প্রাকৃতিক ও সচেতন উপায়ে চা বানানোর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
আরটিভি/এসকে