images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ / পরামর্শ

শোল মাছ সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এক দেশি মাছ

বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০১:০৯ পিএম

শোল মাছ (Striped Snakehead, বৈজ্ঞানিক নাম Channa striata) বাংলাদেশের জলাশয়গুলিতে বহুল পরিচিত এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাছ। এর সুস্বাদু মাংস এবং কাঁটা কম থাকার কারণে এটি যেমন ভোজনরসিকদের প্রিয়, তেমনি এর অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য এটি পুষ্টিবিদদের কাছেও সমান সমাদৃত। কেবল স্বাদেই নয়, নিরাময়কারী গুণের জন্য ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতিতে শোল মাছের কদর রয়েছে বহু প্রাচীনকাল থেকেই।

শোল মাছের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
​শোল মাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, এবং বিশেষ করে ফ্যাটি অ্যাসিড বিদ্যমান। বিভিন্ন গবেষণা এবং ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্য ধারণা অনুসারে, শোল মাছের উল্লেখযোগ্য উপকারিতাগুলি নিম্নরূপ:

টিস্যু পুনরুদ্ধার এবং ক্ষত নিরাময়
​শোল মাছ বিশেষভাবে এর ক্ষত নিরাময়কারী গুণের জন্য বিখ্যাত। এর মাংসপেশী, ত্বক এবং ডিমে এমন কিছু বিশেষ ফ্যাটি অ্যাসিড (যেমন: অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড) এবং উচ্চ মানের প্রোটিন রয়েছে, যা শরীরের কাটা-ছেঁড়া দ্রুত শুকাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত করতে সাহায্য করে। অপারেশনের পর রোগীদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর।

উচ্চ মানের প্রোটিনের উৎস
​অন্যান্য মাছের মতোই শোল মাছে রয়েছে সহজে হজমযোগ্য এবং উচ্চ মানের প্রোটিন। এই প্রোটিন মানবদেহের পেশী গঠন, হরমোন উৎপাদন এবং এনজাইম তৈরির জন্য অপরিহার্য। এটি শরীরকে দীর্ঘ সময়ের জন্য শক্তি সরবরাহ করে।

রক্তের হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধিতে সহায়ক
​শোল মাছে আয়রন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে, যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে এটি রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) প্রতিরোধে এবং রক্তস্বল্পতার রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উপস্থিতি
​যদিও সামুদ্রিক মাছের মতো বেশি নয়, তবুও শোল মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের (Omega-3 Fatty Acids) উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্ক ও চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং সার্বিকভাবে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।



গর্ভাবস্থা ও মাতৃদুগ্ধের জন্য উপকারী
​গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান প্রসবের পর মায়ের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের দুধের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য ঐতিহ্যগতভাবে শোল মাছ সেদ্ধ বা ঝোল রান্না করে খাওয়ানো হয়। এটি মায়ের শরীরের দুর্বলতা কাটাতেও সহায়ক।

হজমতন্ত্রের জন্য সহজপাচ্য
​শোল মাছের মাংসপেশী সাধারণত নরম হয় এবং এর ফাইবার গঠন দ্রুত হজম হতে সাহায্য করে। অসুস্থ এবং দুর্বল রোগীদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাদ্য, কারণ এটি পরিপাকতন্ত্রে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না।

রান্না এবং পরিবেশন
​শোল মাছ সাধারণত ঝোল বা ঝাল করে রান্না করা হয়। শীতকালে এটি সবজির সাথে বা কচি লাউ ডগার সঙ্গে রান্না করলে এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে। এর কাঁটা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এটি ছোট শিশু এবং বয়স্কদের জন্যও নিরাপদ।

বাজারে শোল মাছ কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে মাছটি যেন সতেজ হয়। এর ঔষধি গুণাগুণ অক্ষুণ্ন রাখতে অতিরিক্ত তেল বা মশলার ব্যবহার এড়িয়ে হালকা রান্না করা ভালো।

আরও পড়ুন
bamboo

ওষধি গুণে ভরপুর বাঁশের শিকড়

উপসংহার: সুস্বাদু দেশি মাছ শোল, শুধুমাত্র খাদ্য হিসেবেই নয়, এর নিরাময় ক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের জন্য একটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর পছন্দ। আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই মাছটিকে অন্তর্ভুক্ত করে আপনি সহজেই এর বহুবিধ উপকারিতা লাভ করতে পারেন।

আরটিভি/এসকে