সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৭:১৫ পিএম
শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার পর ইফতারের মুহূর্তটি রোজাদারদের জন্য অন্যরকম এক আনন্দের অনুভূতি নিয়ে আসে। আর এইক্ষেত্রে
ইফতার যদি হয় পুরান ঢাকার ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের ইফতার, তাহলে তো কথাই নেই!
রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক চকবাজার এলাকার ইফতারিতে কি নেই? ‘বড় বাপের পোলায় খায়’, সুতি কাবাব, মোরগ পোলাও, হালিম থেকে শুরু করে পেস্তা শরবত—বাহারি পদের সমাহারে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ভিড় ও যানজট সত্ত্বেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ছুটে আসেন এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকবাজারের ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ইফতার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদেরই একজন মো. সিরাজ। পাঁচ দশক ধরে ঝালমুড়ি বিক্রি করলেও রমজান এলেই তিনি বদলে ফেলেন চেহারা—বাহারি ইফতারির পসরা নিয়ে বসেন চকের আঙিনায়। এবার রমজানেও দৈনিক ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার ইফতার বিক্রি করছেন তিনি।
মো. সিরাজ মিয়া বলেন, এই ব্যবসা আমাদের বাবা-দাদার আমল থেকে চলে আসছে। আমরা সেই ধারাই ধরে রাখছি। রোজা এলে আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়।
তার মতে, শুধু লাভের হিসাব নয়—ঐতিহ্য ধরে রাখার দায়ও আছে তাদের ওপর। যে কারণে চকবাজারের বেশিরভাগ দোকানই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পরিচালিত।
ব্যবসায়ীদের দাবি, মুঘল আমল থেকে এই বাজারে ইফতারের আয়োজন হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে আয়োজনের ধরন, বেড়েছে পদের সংখ্যা, কিন্তু ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা আছে।
শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী জানান, তাদের পরিবার বহু বছর ধরে ইফতারি বিক্রি করছে। এই ঐতিহ্য আমরা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। এটা শুধু ব্যবসা না, আমাদের পরিচয়।
চকবাজারের ইফতার মানেই বৈচিত্র্য। মোরগ পোলাও, গরুর কাবাব, চিকেন রোস্ট, বিফ হালিম, নেহারি, বোরহানি, দই বড়া, শাহী জিলাপি—তালিকা দীর্ঘ।
ইফতার বিক্রেতা সিরাজ মিয়া বলেন, গত বছর ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এবারও একই দাম রাখার চেষ্টা করছি। সব কিছুর দাম বাড়লেও আমরা ক্রেতাদের কথা চিন্তা করছি।
চকবাজার ঘুরে দেখা যায়, এবার নতুন সংযোজন হিসেবে বেশ আলোচনায় রয়েছে ‘কলকাতা পেস্তা বাজারের শরবত’। বিক্রেতাদের দাবি, এতে জাফরান, পেস্তা, কাজু, কাঠবাদাম ও মিনারেল ওয়াটার ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতি হাফ লিটার ২৪০ টাকা দাম হলেও ক্রেতাদের সুবিধা অনুযায়ী কিছু ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিকেল ৪টার পর থেকেই চকবাজার ও আশপাশের এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। ইফতারের আগমুহূর্তে দোকানের সামনে তৈরি হয় দীর্ঘ সারি। অনেক সময় হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়ে।
আরটিভি/এমআই