images

লাইফস্টাইল

ইফতারে কেন খাবেন জিরা পানি

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০২:১৩ পিএম

রমজানের দীর্ঘ সময় সিয়াম সাধনার পর ইফতারে শরীরকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে পানীয়র গুরুত্ব অপরিসীম। সারাদিন উপোস থাকার পর আমাদের পরিপাকতন্ত্র কিছুটা সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, তাই ইফতারে এমন কিছু পান করা উচিত যা একই সাথে তৃষ্ণা মেটাবে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখবে। 

রান্নাঘরের অতি পরিচিত মসলা জিরা দিয়ে তৈরি এক গ্লাস জিরা পানি এই ক্ষেত্রে হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী। পুষ্টিবিদদের মতে, কেবল স্বাদের জন্য নয় বরং শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সচল করতে জিরা পানির জুড়ি মেলা ভার।

ইফতারে জিরা পানি পানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি হজম শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ ইফতারে আমরা অনেক সময় ভারী বা তৈলাক্ত খাবার খেয়ে ফেলি, যা বদহজম বা পেটে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। জিরায় থাকা প্রাকৃতিক এনজাইমগুলো লালা গ্রন্থিকে সক্রিয় করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। ফলে পেটের গ্যাস, অম্বল ও পেট ফাঁপা ভাব মুহূর্তেই কমে যায়। বিশেষ করে রমজানে যারা ভাজাপোড়া খাবার বেশি খান, তাদের জন্য জিরা পানি পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করতে চমৎকার কাজ করে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

ইফতারের পর চা-কফি: যে প্রভাব পড়ে শরীরে

তীব্র গরমে রোজার ক্লান্তি দূর করতেও জিরা পানি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এটি শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘক্ষণ তৃষ্ণা মেটাতে সাহায্য করে। সারাদিন পানি পান না করার ফলে শরীরে যে জলীয় অংশের ঘাটতি তৈরি হয়, জিরার গুণাগুণ সেই পানিশূন্যতা দ্রুত পূরণ করতে সক্ষম। এছাড়া নিয়মিত এই পানীয় পানের ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়কের ভূমিকা পালন করে। জিরায় থাকা প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে রোজাদারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

জিরা পানি তৈরি করার পদ্ধতিও অত্যন্ত সহজ এবং সাশ্রয়ী। এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ জিরা সারারাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন ইফতারের সময় ছেঁকে পান করা যায়। আবার কেউ চাইলে এক চা চামচ জিরা দুই কাপ পানিতে ফুটিয়ে অর্ধেক করে নিয়ে সেটি ঠান্ডা করেও পান করতে পারেন। তবে যাদের আলসার বা অতিরিক্ত লো ব্লাড প্রেসারের মতো সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত এই পানীয় গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই পারে রোজার পূর্ণ তৃপ্তি এবং শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে। 

আরটিভি/এআর